পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ আগামী সপ্তাহ থেকেই অন্তর্দেশীয় বিমানযাত্রা আরও খরচসাপেক্ষ হতে পারে। টিকিটের দামে যে সর্বোচ্চ সীমা গত কয়েক মাস ধরে চালু ছিল, তা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সোমবার থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলেই জানা গিয়েছে।পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জেরে ইতিমধ্যেই জ্বালানির খরচ বেড়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে দেশের বিমান পরিষেবাতেও।
ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর মতো সংস্থাগুলি আগে থেকেই যাত্রীদের উপর জ্বালানি সারচার্জ চাপাতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় ভাড়ার ঊর্ধ্বসীমা তুলে নেওয়া হলে খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।আরও পড়ুন:
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর পরিষেবা বিঘ্নের জেরে বিশেষ করে ইন্ডিগোর সমস্যার প্রভাব পড়েছিল গোটা বিমান ব্যবস্থায়। ভাড়া হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিসেম্বরের শুরুতে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করে। তখন নির্দিষ্ট দূরত্ব অনুযায়ী ইকোনমি ক্লাসের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল—৫০০ কিমি পর্যন্ত ৭,৫০০ টাকা, ৫০০-১০০০ কিমিতে ১২,০০০ টাকা, ১০০০-১৫০০ কিমিতে ১৫,০০০ টাকা এবং তার বেশি দূরত্বে ১৮,০০০ টাকা।
কিন্তু বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমান সংস্থাগুলির খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি, ডলারের তুলনায় টাকার মান কমে যাওয়া—সব মিলিয়ে আর্থিক চাপে পড়েছে সংস্থাগুলি। এই প্রেক্ষিতে ফেডারেশন অব এয়ারলেন্স কেন্দ্রের কাছে ভাড়ার সীমা তুলে নেওয়ার দাবি জানায়।আরও পড়ুন:
ভারতে বিমানভাড়া মূলত বাজার নির্ভর। সাধারণ পরিস্থিতিতে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না।
তবে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে, যেমন কোভিডের সময় বা গত ডিসেম্বরের মতো পরিস্থিতিতে, ভাড়া নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।এবার সেই সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হলেও বিমান সংস্থাগুলিকে সতর্কবার্তা দিয়েছে কেন্দ্র। যাত্রীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে দিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও যুক্তিসঙ্গততা বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ালে তা কড়া নজরে দেখা হবে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে সরকার।