এম এ হাকিম, বনগাঁ : উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁয় ইছামতি নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে চলেছে। নদীর জল বিপদসীমার উপরে ওঠায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পঞ্চায়েতকে এ ব্যাপারে সতর্ক বার্তা পাঠানোয় সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানরা মাঠে নেমে মানুষ জনকে নদীপাড় এলাকা এবং নদী সংলগ্ন নীচু এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করেছেন। ইছামতি নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বনগাঁর বিডিও এরইমধ্যে ঘাটবাঁওড়, গঙ্গানন্দপুর, কালুপুর, গোপালনগর-২ এবং ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে নদীর তীরবর্তী মানুষজনকে ত্রাণ শিবিরে স্থানান্তরিত করতে বলেছেন।
আরও পড়ুন:
বনগাঁ বিডিও অফিস সংলগ্ন ঘাটবাঁওড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আনিসুর জামান মণ্ডলের নেতৃত্বে ইছামতি নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজনকে পাইকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকপাড়া এমএসকে স্কুল এবং অন্যত্র রাখা হয়েছে। সেখানে তাঁদেরকে খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি কখনও কখনও রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার পঞ্চায়েত প্রধান আনিসুর জামান মণ্ডল ‘পুবের কলম’ প্রতিবেদককে জানান, পাইকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২টি পরিবার এবং পাইকপাড়া এমএসকে স্কুলে ১৬টি পরিবারের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও সম্প্রতিক অতিবর্ষণে বোয়ালদহতে বাঁওড় সংলগ্ন এলাকায় জল জমে যাওয়ায় সেই এলাকা থেকে ১৩টি পরিবারকে বোয়ালদহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিকে, শুক্রবার সকালে ইছামতির জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজনের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, বাগদা ব্লকের বাকসা গ্রামে প্রবল জলের তোড়ে ঢালাই রাস্তার ভেসে যাওয়ায় সেখানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এরফলে বাগদা পশ্চিমপাড়ার মানুষজন গভীর সমস্যার মধ্যে পড়েছেন।
আরও পড়ুন:
ওই এলাকার কমপক্ষে ৫০টি পরিবার দুর্ভোগে পড়েছেন। একইগ্রামে একটি আইসিডিএস স্কুলের পাশে ধস নামায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্ত দুটি এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধক্ষ্য পরিতোষ কুমার সাহা।