পুবের কলম প্রতিবেদক: শহর কলকাতা দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের একটি বড় এলাকা মেটিয়াবুরুজ। মূলত জরি ও পোশাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের এখানে বসবাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকাংশই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। রয়েছেন হিন্দুরাও। পাশাপাশি অন্যান্য জনজাতির মানুষজন। তবে অধিকাংশই মুসলিম।
কিন্তু এই দুর্গাপুজোর সময় মেটিয়াবুরুজে ঘুরে কারও বোঝার সাধ্য নেই যে মুসলিম প্রধান এলাকা। মাইকে সংগীতের মূর্ছনা আর রাস্তায় ঝিকিমিকি আলোর রোশনাই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ রচনা করে। বাঙালি হিন্দুদের বড় উৎসব দুর্গাপুজোর আনন্দে এখানকার মানুষজনও মাতোয়ারা।আরও পড়ুন:
শহরের অন্যান্য এলাকার মতো এখানকার দুর্গাপুজোতেও যুক্ত হয়েছে থিম পুজো। সেই কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন ইসমাইল– মনিরুল– রাজ্জাকরা।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় এক পুজো কমিটির উদ্যোক্তা স্বপন ঘোষ বলেন– আমাদের এখানে কোনও ভেদাভেদ নেই– আমরা একে-অপরের উৎসবে শামিল হই।
সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই। এখানে মিলাদ-উন-নবীর সময় যেমন আমরা মুসলিম ভাইদের পাশে থাকি– আমাদের পুজো-পার্বণেও তাঁদের পাশে পাই। অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানেও আমরা কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে অংশগ্রহণ করি।আরও পড়ুন:
আর এক পুজো কমিটির সদস্য বলেন– থিম পুজোর জন্য বাজেট– সময়– পরিকাঠামো ইত্যাদি বড় ফ্যাক্টর। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তা সহজেই হয়ে যায়। তিনি অতো জানান– চাঁদা দিয়ে মুসলিমরা সহযোগিতা না করলে বড় পুজো করা সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন:
মেটিয়াবুরুজ অঞ্চলে কমবেশি ২০-২২টি পুজো হচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লা-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিও তাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন:
এ বিষয়ে মেটিয়াবুরুজ জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি সমাজসেবী সেখ মুস্তাক আহমেদ (বাচ্চুদা) বলেন– মেটিয়াবুরুজের মানুষদের অবস্থা– তাদের নিত্যনৈমিত্তিক জীবন– মিলন-মৈত্রী ও সহবাসস্থানের কথা শহর কলকাতা বা অন্যান্য এলাকার মানুষ হয়তো জানেন না– কিন্তু এখানে এসে দেখুন ধারণা পালটে যাবে। এই পুজোর ক’টা দিন ঘুরলে দেখতে পারেন কিভাবে আমরা একে অপরের সঙ্গে থাকি। উৎসব প্রিয় বাঙালির কাছে এইভাবে উৎসবকে ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না– তা প্রমাণ করে দেয় এখানকার মানুষজন। বিসর্জনের সময় যেসব মহল্লা দিয়ে শোভাযাত্রা যায় সেখানকার মানুষের সহযোগিতাতেই সুষ্ঠুভাবে পুজো সম্পন্ন হয় পুজো। দুস্থদের নতুন জামা-কাপড় দেওয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করেন পুজো উদ্যোক্তারা।