আঙ্কারা, ১০ এপ্রিল: ইসরাইলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল তুরস্ক। গাজায় যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলে পণ্য রপ্তানি বন্ধ করল এরদোগান সরকার। মঙ্গলবার তুর্কি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা করেছে। গত ছয় মাসের মধ্যে ইসরাইলের বিরুদ্ধে এটিই তুরস্কের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। তবে তুরস্কের হুঁশিয়ারি, গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
আরও পড়ুন:
তুরস্কের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লোহা, মার্বেল, ইস্পাত, সিমেন্ট, অ্যালুমিনিয়াম, ইট, সার, নির্মাণ সরঞ্জাম সহ ৫৪ ধরনের পণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি উড়োজাহাজের জ্বালানি তেলও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তুর্কি মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইনকে প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করে চলেছে। এমনকি তারা আন্তর্জাতিক মহলকেও তোয়াক্কা করছে না। ইসরাইল অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না করলে এবং গাজায় পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
’আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এর আগে বিমানে গাজায় ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর অনুমতি চেয়েছিল তুরস্ক। কিন্তু ইসরাইল তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপরই কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তুরস্ক। সেই হুঁশিয়ারির একদিন পরই কড়া পদক্ষেপ নিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান। এদিন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ধাপে ধাপে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া করা হবে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, ইসরাইল-হামাস যুদ্ধ শুরু হয় গত ৭ অক্টোবর। এরপর ইসরাইলের কড়া সমালোচনা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান। বরাবরই যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে আসছেন তিনি। গাজা যুদ্ধের ফলে তুরস্ক-ইসরাইলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে কার্যত ছেদ পড়ে। ইসরাইলকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবেও তোপ দেগেছিলেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। ইসরাইল গণহত্যায় লিপ্ত বলেও অভিযোগ করেছিলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এবার সরাসরি ইসরাইলের ওপর আর্থিক প্রতিবন্ধকতা আরোপ করল আঙ্কারা।