পুবের কলম প্রতিবেদক: মঙ্গলবার কলকাতার গোবরা কবরস্থানে উদ্বোধন হল মুসলিম লাশ রাখার জন্য আধুনিক মানের শবাগার ‘মাঞ্জিল-এ-সুকুন’। কলকাতার সমাজসেবামূলক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম’-এর উদ্যোগে এই আধুনিক মানের শবাগার গড়ে তোলা হয়। মুসলিম লাশ সংরক্ষণের পাশাপাশি গোবরা মুসলিম কবরস্থানের দু’টি ব্লকে বেওয়ারিশ মুসলিমদের লাশ কাফন-দাফনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হল আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম-এর পক্ষ থেকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টরা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের বক্তব্য, লাশ সংরক্ষণ ব্যবস্থার ফলে শহরের অনেকের সুবিধা হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশে থাকেন বহু মানুষের আত্মীয় স্বজন। কলকাতায় লাশ সংরক্ষণ ব্যবস্থার ফলে আত্মীয়-স্বজনরাও তাঁদের লাশ দোয়ার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন:
(ছবি: সন্দীপ সাহা)এদিন ‘মাঞ্জিল-এ-সুকুন’ এবং বেওয়ারিশ মুসলিম লাশ কাফন-দাফনের ‘মিট্টি মাঞ্জিল’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নায়ন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ছিলেন ঈমামে ঈদাইন ক্কারী ফজলুর রহমান, মাওলানা শফিক কাশেমী, সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরান, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম-এর সভাপতি আমিরউদ্দিন (ববি), সমাজসেবী হাজি মোস্তাক সিদ্দিকী, আমিনউদ্দিন সিদ্দিকী প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
(ছবি: সন্দীপ সাহা)এ দিন আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম-এর সভাপতি তথা মেয়র পারিষদ আমিরউদ্দিন ববি বলেন, লাশ সংরক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক মানের ৬টি ফ্রিজার বক্স কেনা হয়েছে। মাত্র ৫০০ টাকার বিনিময়ে প্রতি চব্বিশ ঘণ্টার জন্য লাশ সংরক্ষণ করে রাখা যাবে। অন্যদিকে, বেওয়ারিশ মুসলিম লাশ কাফনের স্থানটিকেও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে বলেও জানান আমিরউদ্দিন। তিনি বলেন, এখানে এক সঙ্গে ৬টি লাশ রাখা যাবে। ৩ দিন পর্যন্ত লাশ রাখা যাবে।
তবে ১২ থেকে ২৪ ঘন্টার বেশি হলে একটি বিশেষ ইনজেকশন দিতে হয় লাশকে। যাতে শরীর কালো না হয়ে যায়। এর দাম পড়ে ১৫০০ টাকা বেশি। তবে ইসলামিয়া হাসপাতালের উদ্যোগে এই ইনজেকশন ১৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। আরও একটি অত্যাধুনিক মেশিন ক্রয় করা হচ্ছে। তাতেও এই মেসিন লাগানো হবে। তাতে লাশ এক মাস পর্যন্ত রাখা যাবে।আরও পড়ুন:
(ছবি: সন্দীপ সাহা)শুধুমাত্র মুসলিমদের লাশ রাখার জন্য কলকাতায় এতদিন কোনও নির্দিষ্ট স্থান ছিল না। প্রসঙ্গত, মুসলিমদেরও দীর্ঘদিনের দাবি ছিল তাদের জন্য কলকাতায় একটি স্বতন্ত্র শবাগারের ব্যবস্থা করা হোক। সেই ব্যবস্থা হওয়ায় এ'ন উপকৃত হবেন শহরের বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন:
আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম একটি ইসলামি জনকল্যাণমূলক সংস্থা। ১৯০৫ সালে অবিভক্ত ভারতে কলকাতা শহরে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত গুজরাতের বাসিন্দা মুসলিম সমাজসেবি ইব্রাহিম মুহাম্মদ ডুপ্লে-এর উদ্যোগেই কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম’। তার পর থেকে এই সংস্থা কলকাতায় মুসলিম লাশ দাফন-কাফন করে আসছে। দেশ ভাগের পর ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম’। তার পর থেকে কলকাতার পাশাপাশি গোটা বাংলাদেশ জুড়েও এই সংস্থা দাফন-কাফনের পাশাপাশি জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সমাজসেবামূলক কাজ করে চলেছে।