পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: জীবনাবসান হয়েছে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী স্মরণানন্দজির। বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন তিনি। গত ৩ মার্চ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ৯৪ বছর বয়সী মহারাজের চিকিৎসা শুরু হয়। ওইদিনই তাঁকে ভেন্টিলেশনে দিতে হয়।

মহারাজের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাঁকে রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাত ৮-১৪ মিনিটে প্রয়াত হন তিনি।

১৯২৯ সালে তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলার আন্দামি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন স্বামী স্মরণানন্দ। ১৯৯৭ সালে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। ২০১৭ সালে স্বামী আত্মস্থানন্দের প্রয়াণের পরে ওই বছরের ১৭ জুলাই মঠ ও মিশনের ষোড়শ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন স্বামী স্মরণানন্দ।

তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া গোটা মঠেই। স্বামী স্মরণানন্দজি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ষোড়শ অধ্যক্ষ ছিলেন।

স্বামী স্মরণানন্দের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন,  'রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের শ্রদ্ধেয় সভাপতি শ্রীমৎ স্বামী স্মরণানন্দজি মহারাজ আধ্যাত্মিকতা এবং জীবসেবায় তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। অগণিত হৃদয় ও মননে তিনি ছাপ রেখে গিয়েছেন।

তাঁর সহানুভূতি ও প্রজ্ঞা বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।” মোদির আরও সংযোজন, বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁর সঙ্গে আমার যোগাযোগ খুব নিবিড় হয়েছিল। ২০২০ সালে বেলুড় মঠ সফরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কয়েক সপ্তাহ আগে কলকাতায় হাসপাতালে গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবরও নিয়েছিলাম। বেলুড় মঠের অসংখ্য ভক্তের প্রতি আমার সমবেদনা।

 

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, 'শ্রীমৎ স্বামী স্মরণানন্দ জি ভারতীয় আধ্যাত্মবাদের অন্যতম প্রধান আলোকবর্তিকা ছিলেন যিনি রামকৃষ্ণ মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন৷ এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে, তিনি আধ্যাত্মিকতা এবং সামাজিক কল্যাণের প্রচার করেছিলেন৷'

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের শ্রদ্ধেয় সভাপতি শ্রীমৎ স্বামী স্মরণানন্দজি মহারাজের আজ রাতে মৃত্যু সংবাদে গভীরভাবে শোকাহত। জীবদ্দশায় রামকৃষ্ণদেব পরমহংসের আদর্শে দীক্ষিত অগুণতি ভক্তের আধ্যাত্মিক গুরু হিসাবে তাঁদের পথ দেখিয়েছেন। আমি তাঁর সমস্ত সহ-সন্ন্যাসী, অনুগামী ও ভক্তদের গভীর সমবেদনা জানাই।”