পুবের কলম প্রতিবেদক: তিনি তাঁর সন্তানকে খুন করেননি। ঘুম উঠে তিনি তার সন্তানকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন, এমনই দাবি মেধাবী, উচ্চশিক্ষিতা সূচনা শেঠের। তবে পুলিশ সূচনার বয়ান মানতে নারাজ। সত্যি ঘটনা সামনে আনার জন্য সূচনার  সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষা করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বেঙ্গালুরুর সূচনার সঙ্গে মিলেছে কলকাতার যোগ। এই কলকাতারই স্বনামধন্য কবি, আবৃত্তিকার আরণ্যক বসুর ভাগ্নি তিনি। আড়িয়াদহের রামগড় এলাকার বাসিন্দা সেই আরণ্যক বসুর বাড়িতেই শৈশবের অনেক সময় কাটিয়েছেন সূচনা। সূচনার বিষয় জানতে চাওয়া হলে পুবের কলমের প্রতিবেদককে আরণ্যক বসু বলেন, 'হ্যাঁ সূচনা আমার নিজের ভাগ্নি।

তবে এই ঘটনা পর থেকে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমাদের আইনজীবীর তরফে এখন কোনও কথা বলতে বারণ করা হয়েছে। আপনারা সবাই ভালো, আর সুস্থ থাকুন'।

২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সূচনার বিয়ে হয়েছিল এই আরণ্যক বসুর বাড়ি থেকেই। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে আরণ্যকের স্ত্রী রূপা বসুর কাছেই সূচনার অনেক সময় কেটেছে। সূচনা কেন এই ধরনের কাজ করলো, গোটা ঘটনায় ভেঙে পড়েছে বসু পরিবার।

পুলিশ জানিয়েছে গত ৬ জানুয়ারি গোয়ায় সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টে শিশুপুত্রকে নিয়ে উঠেছিলেন সূচনা। তারপর ট্রলি ব্যাগে করে সন্তানের দেহ নিয়ে পালানোর সময় চিত্রদুর্গ থেকে তাকে গ্রেফতার করে কর্নাটক পুলিশ।

এরপর তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে গোয়ায় নিয়ে আসা হয়। আপাতত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে কোনওরকম সহযোগিতা করছেন না সূচনা। সন্তানের মৃত্যু নিয়েও কোনও অনুশোচনা নেই তার। কেনো সূচনা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন সেই সম্পর্কেও তিনি পুলিশকে কোনও সদুত্তোর দিতে পারেননি।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় সূচনা পুলিশকে জানিয়েছেন, তার কোনও ধারণা নেই যে, কিভাবে তার সন্তান মারা গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি ঘুমাতে গিয়েছিলেন এবং যখন তিনি ঘুম থেকে উঠেছিলেন তখন তিনি দেখেন তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ সূচনার এই যুক্তি মানতে নারাজ।

সূচনা তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদের কথা স্বীকার করেছেন। শিশুর মৃত্যুর সময় প্রাক্তন স্বামী ভেঙ্কট রমন ইন্দোনেশিয়ায় ছিলেন। দেশে ফিরে ইতিমধ্যেই তিনি সন্তানের দাহ কাজ সম্পন্ন করেছেন। এখনও পর্যন্ত পুলিশের অনুমান, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণেই শিশুসন্তানকে হত্যা! বিচ্ছেদের পরে প্রতি মাসে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আড়াইলক্ষ টাকা খরপোশ দাবি করেছিলেন সূচনা। পৃথক একটি মামলায় গত বছরের আগস্টে সূচনা, ভেঙ্কট রমনের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন রমন। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে এবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে ভেঙ্কট রমনকে।