পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: মৃত্যু হল ওড়িশার নির্যাতিতার। অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে গায়ে আগুন লাগিয়েছিলেন তরুণী। ৯৫ শতাংশের বেশি পুড়ে গিয়েছিল শরীর। ভর্তি ছিলেন এইমস ভুবনেশ্বরে। সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সোমবার রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে ওড়িশার বালেশ্বরের ওই কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল এবং কলেজের অধ্যক্ষকে। 

জানা গেছে, ওড়িশার বালেশ্বরের ফকির মোহন কলেজ (অটোনোমাস)-এর ২০ বছর বয়সী ওই ছাত্রী বি.এড পড়তেন।

গত ১ জুলাই বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সমীর কুমার সাহুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। অভিযোগ জানিয়েছিলেন কলেজ প্রিন্সিপালের কাছে। সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উপরন্তু বাড়তে থাকে অত্যাচার। এগুলো সহ্য করতে না পেরে কলেজ চত্বরেই গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, তরুণীকে বাঁচানোর জন্য সম্ভাব্য সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।  তাঁর বৃক্কতন্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও করা হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি।

হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর চিকিৎসকেরা ওই সময় জানিয়েছিলেন, ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, তন্ত্র পুড়ে গিয়েছে। কিডনিও পুড়ে যাওয়ার কারণে তা কাজ করছিল না। তরুণীর ডায়ালিসিসও চলছিল।  ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চিকিৎসায় পরামর্শ দিচ্ছিলেন দিল্লি এমসের বিশেষজ্ঞেরাও। কিন্তু সোমবার রাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।