উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : সন্ধ্যাবেলায় প্রকাশ্যে মদ্যপান, গালিগালাজের প্রতিবাদ করেছিলেন এক যুবক। দুষ্কৃতীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। হাসপাতালে মারা যান সায়েম খান নামে ওই যুবক। সেই ঘটনার পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর বিধানসভার বকুলতলা থানার বেলে দূর্গানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বুইচবাটিতে উত্তেজনা রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে গাছ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন:

অবিলম্বে ওই এলাকায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য ও প্রকাশ্যে মদ্যপান বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ চলে।বকুলতলার থানার ওসি প্রদীপ রায় গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশি আশ্বাসে সেই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
ওই ‘খুনে’র ঘটনায় এখনও অবধি দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তোলা হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুইচবাটি এলাকায় মদ্যপানের আসর বসে বলে অভিযোগ। রবিবার রাতেও কয়েকজন যুবক মদ্যপানের পাশাপাশি গালিগালাজ করছিলেন। সেসময় ইউসুফ খান, সায়েম খান-সহ স্থানীয় যুবকরা তার প্রতিবাদ করেন।
রাতে একপ্রস্ত ঝামেলা হয় দু’পক্ষের। অভিযুক্তরা স্থানীয়দের মারধরের পাশাপাশি এলাকায় বোমাবাজি করে বলেও অভিযোগ। সোমবার সকালে ফের অভিযুক্তরা ওই এলাকায় গিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
বাড়িতে ঢুকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ মহম্মদ কুতুবউদ্দিন মোল্লা-সহ তাঁর দলবল এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনায় মোট পাঁচজন জখম হয়েছিলেন। পরে হাসপাতালে মারা যান সায়েম খান(৩০)। সেই ঘটনার পর থেকেই বাসিন্দারা প্রবল ক্ষুব্ধ। ওই ঘটনায় ১৩ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।আরও পড়ুন:

ঘটনার তদন্তে নেমে বকুলতলা থানার পুলিশ মোক্তার শেখ ও কুতুবউদ্দিন মোল্লাকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে।ওই এলাকায় দুষ্কৃতীরা এখন ও ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, এলাকায় প্রকাশ্যে মদ্যপান ও অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধের দাবিও তোলা হয়েছে এদিন।স্থানীয়রা এদিন গাছের গুঁড়ি ফেলে জয়নগর-কুলতলি রোড অবরোধ করে রাখেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলে অবরোধ।অবরোধ তুলতে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় যায়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের আশ্বস্ত করেন। তারপরই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। ওই হামলার জখমরা এখনও বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। এই ঘটনার পর থেকে এলাকা উত্তপ্ত থাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।