পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হরিয়ানায় গরু পাচারকারি সন্দেহে নাসির ও জুনাইদকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সোচ্চার ছাত্র সমাজ। শুক্রবার প্ল্যাকার্ড হাতে দিল্লির যন্তর-মন্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় ছাত্রসংগঠনগুলি। অল ইন্ডিয়া ছাত্র অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এদিন বিক্ষোভ দেখায়। সকলেরই দাবি ছিল অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি।
আরও পড়ুন:
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ কলেজের ছাত্র সৃজন বলেন, আমরা নাসির ও জুনাইদের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমরা সামগ্রিকভাবে দেশে বেড়ে চলা ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি, যাকে দেশের সরকার সমর্থন করে চলেছে।আরও পড়ুন:
সৃজন বলেন, সরকার তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ। সরকার সাধারণ মানুষের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে, ধনী ও গরিবদের ব্যবধান বাড়িয়ে বড়লোকদের ১ শতাংশ সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। আর এই সব ত্রুটি আড়াল করতে সরকার ধর্মকে আশ্রয় করছে। সৃজন আরও বলেন, আগে ধর্ম সবার ব্যক্তিগত ব্যাপার ছিল, কিন্তু এখন সরকার মানুষকে বলছে যে তাদের ধর্মের জন্য লড়াই করতে হবে।
যারা গো-রক্ষার নামে মুসলমানদের হত্যা করে চলেছে সরকার তাদের মালা পরিয়ে বরণ করছে।আরও পড়ুন:
সৃজন আরও বলেন, আমরা চাই মনু মানেসরের দুই মুসলিম যুবকের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা শাস্তি পাক। পুলিশের কাছে ৯জন অভিযুক্তের নাম থাকলেও এখনও পর্যন্ত রাজস্থান পুলিশ শ্রীকান্ত বলে একজনকে গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র বলেন, দেশে অরাজকতায় ছেয়ে গেছে। সরকার বর্বরোচিত ঘটনার বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি উঠে গিয়েছে।দিল্লির পাশাপাশি হরিয়ানার ন্যূহ জেলায় একইভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, গত ২১ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানার মনু মানেসরে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে একটি হিন্দু মহাপঞ্চায়েত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা নাম না করে রাজস্থান সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে হুমকি দিয়েছিলেন যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলে পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে।অল ইন্ডিয়া ছাত্র অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে আমির নামে এক ছাত্রের বক্তব্য, সবাই মিলেজুলে আছে বোঝাই যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মহাপঞ্চায়েতের পর এফআইআর থেকে মনু মানেসারের অভিযুক্তদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও রাজস্থান পুলিশ তা অস্বীকার করেছে।
আরও পড়ুন: