পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: পুণেতে জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মুসলিমদের দোকান। ফাহিমুদ্দিন আনসারির পরিবার ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রুটির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ছয় দশক আগে ফাহিমুদ্দিনের বাবা সাইকেল চালিয়ে গোটা পুণে শহর চষে ফেলতেন। সাইকেল করেই বিক্রি করতেন পাও, বিস্কুট, কেক। যদিও পরে আনসারির পরিবার পুনের মনোরম মুলশি তালুকের পাউড গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিল। ২০ বছর আগে পারিবারিক রুটির ব্যবসা হিসেবে ‘নিউ সঙ্গম বেকারি’ খুলেছিলেন ফাহিমুদ্দিন। কিন্তু গত দুই মাস ধরে কারখানার উনুন ঠান্ডা হয়ে পড়ে রয়েছে। সেখানে আগুন জ্বলেনি।

চলতি বছরের মে মাসের শুরুর কথা। সকালে বেকারি খুলতে গিয়েছিলেন ফাহিমুদ্দিন। স্থানীয়রা বাধা দেয়। তারপর থেকে আর বেকারি খুলতে পারেননি। জানান, এলাকায় সম্প্রতি (৩ মে নাগাদ) একটি সাম্প্রদায়িক অশান্তি হয়েছিল। তারপর থেকে এলাকাজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষ তীব্রভাবে ছড়ানো হচ্ছে। মুসমিদের বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ফাহিমুদ্দিন জানান, তাঁকে যেভাবে বেকারি খুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে তিনি পুলিশ-প্রশাসনে একাধিকবার অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।

একটি নিউজ পোর্টালের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এলাকায় প্রায় ৩,০০০ মুসলিমের বাস। গত দুই মাসে ভাঙচুর, হুমকি, বয়কট এবং ব্যবসা বন্ধ করার চাপের ঘটনার পর গ্রামের ৩৫০জন মুসলিমের মধ্যে ২৫০ জনের বেশি মুসলিমকে বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। পাউড গ্রামের বেশিরভাগ মুসলিম কয়েক দশক ধরে সেখানে বসবাস করে আসছে এবং বেকারি, সেলুন, খাবারের দোকানের মতো ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, গত ২ মাসে পুলিশের কাছে কমকরে ১০টি অভিযোগ জমা দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এই বিষয়ে পুনে গ্রামীণ পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল বলেন, ‘এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। আমরা ধাপে ধাপে এর মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি।’ উল্লেখ্য, পাউড ছাড়াও মুলশি তালুকের আরও কয়েকটি গ্রামে মুসলিমদের অর্থনৈতিক বয়কটের আহ্বান জানিয়ে পোস্টার লাগানো হয়েছিল।

ফাহিমুদ্দিনের দাবি, এতদিন বেকারি বন্ধ থাকার কারণে তাঁর উপার্জনও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যতটুকু সঞ্চয় ছিল সেটাও শেষের পথে। অবিলম্বে বেকারি খুলতে না পারলে খুব বিপদে পড়তে হবে। তাঁর কথায়, ‘আমরা কয়েক দশক ধরে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে এখানে শান্তিতে বসবাস করছি। কিন্তু এখন, রাতারাতি, আমাদের সাথে বহিরাগতদের মতো আচরণ করা হচ্ছে এবং আমাদের জীবিকা বন্ধ করে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।’

একই সমস্যার শিকার আর এক বেকারি ব্যবসায়ী ৪২ বছরের রিজওয়ান শেখ। রিজওয়ান জানান পাউডে তাঁর ‘নিউ ভারত বেকারি’ জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২২টি ছাগলের মধ্যে ১৮টি চুরি হয়ে গেছে। পুলিশ এবং জেলা কালেক্টরের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত দুই মাস ধরে তাঁর উপার্জন সম্পূর্ণ বন্ধ।