পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ সোমবারই ১৪৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির। তালিকায় পুরনো মুখ থাকলেও রয়েছে একাধিক নতুন মুখ। তারপরেই দলের অন্দরে বিদ্রহ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় দেখা যাচ্ছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, কোথাও দলত্যাগ, আবার কোথাও সরাসরি ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে অস্বস্তি বাড়ছে রাজ্য নেতৃত্বের।

পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী সুভাষ পাঁজার নাম। একেবারে নতুন এই মুখকে প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তমলুক সাংগঠনিক জেলার সদস্য বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহিষাদল মণ্ডল ৫-এর সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার জানা। তাঁদের অভিযোগ, প্রার্থী নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, বিজেপি একটি কর্পোরেট ধাঁচে পরিচালিত দল হয়ে উঠেছে, যেখানে তিনি নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারছেন না। ইতিমধ্যেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান।

অন্যদিকে দীপক কুমার জানা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধু মহিষাদল নয়, নন্দীগ্রাম, হলদিয়া, তমলুক-সহ একাধিক এলাকায় আরও অনেক নেতা শীঘ্রই দল ছাড়তে পারেন। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই মহিষাদল কেন্দ্র থেকেই বিজেপির প্রার্থী ছিলেন বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে আলিপুরদুয়ারেও প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরিতোষ দাসকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা বিজেপি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান একাংশ কর্মী-সমর্থক। কার্যালয়ের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন জেলা বিজেপি সভাপতি মিঠু দাস। তাঁকেও ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ কর্মীরা। পরে তিনি জানান, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কর্মীদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা হবে।শুধু আলিপুরদুয়ার নয়, উত্তরবঙ্গের কুমারগ্রাম কেন্দ্রেও প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। মনোজ কুমার ওরাওকে প্রার্থী করায় তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেত্রী কল্পনা নাগ। তাঁর অভিযোগ, প্রার্থী নির্বাচনে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।