উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: সুন্দরবনের মৌলেদের পাশে এগিয়ে এলো রাজ্য সরকার। বাড়িয়ে দেওয়া হল মধু কেনার মূল্য সুন্দরবনে। এবছরে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে মৌলেদের সংখ্যা বাড়লো।
আরও পড়ুন:
এ বছর সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় শুক্রবার থেকেই শুরু হয়ে গেছে মধু সংগ্রহের কাজ। সুন্দরবনের সজনেখালি ও বসিরহাট দু’টি রেঞ্জের অন্তর্গত বনাঞ্চলে মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাই রওনা দিয়েছেন মৌলেরা। এ বার সুন্দরবন থেকে সংগৃহীত মধুর জন্য বাড়তি দাম দেওয়া হবে বলে আগেই ঘোষণা করেছিল বন দফতর। আর তাই বেশি সংখ্যক মৌলে এবার মধু সংগ্রহে গেল। এ বছর মধু বেশি হওয়ার চান্স থাকায় বেশি সংখ্যক মৌলে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে গেল। আর এ বার অনেক বেশি মধু মিলবে বলে আশাবাদী বন দফতর।
আরও পড়ুন:

বন দফতর সূএে জানা গেল, এবারে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় ৭৫টি দল মধু সংগ্রহ গেছে। ৫৭৬ জন মৌলে আগামী একমাস ধরে দু’দফায় সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহ করবেন। সেই মধু তাঁরা বিক্রি করবে বন দফতরের কাছে। গত বছর ৪৩টি দলে প্রায় ৩০০ জন মৌলে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে ছিলেন। এ বার মধুর দাম বেশ কিছুটা বাড়িয়েছে বন দফতর। গত বছর কেজি প্রতি ১৮০ টাকা করে দাম পেয়েছিল মৌলেরা। এর সঙ্গে ২০ টাকা বাড়তি দেওয়া হয়েছিল মধু সংগ্রহের পারিশ্রমিক হিসেবে।
আরও পড়ুন:
এবারে বন দফতর সূএে জানা গেল, চলতি বছর থেকে গুণমান বিচার করে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে সংগৃহীত মধু। মধুতে ২৩ শতাংশের বেশি জল থাকলে সেই মধু বন দফতর কেজি প্রতি ২২৫ টাকা করে দাম দেবে।
অন্যদিকে, ২৩ শতাংশের কম জল থাকলে সেই মধুর দাম কেজি প্রতি ২৫০ টাকা করে পাবেন মৌলেরা। পাশাপাশি, প্রতি কেজিতে এ বারও ২০ টাকা করে পারিশ্রমিক পাবেন তাঁরা। সুন্দরবনের মধুর চাহিদা গত দু’তিন বছরে যথেষ্ট বেড়েছে। মৌলেরা যে ভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করেন, তাতে এই বাড়তি দাম তাঁদের আরও উৎসাহিত করবে বলেই দাবি বন দফতরের। গত বছর সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের এলাকা থেকে ১২ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করেছিলেন মৌলেরা।আরও পড়ুন:
সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বার প্রায় দ্বিগুন সংখ্যক মৌলে মধু সংগ্রহে গিয়েছেন। তাই আমরা আশা করছি ১৬ থেকে ২০ মেট্রিক টন মধু মিলবে এবছর।
আরও পড়ুন:

কুলতলির দেউলবাড়ির বাসিন্দা অনাদি হালদার ও ভাষা গুড়গুড়িয়ার লুৎফর মোল্লা বলেন, গত দু-তিন প্রাকৃতিক দূর্যোগ কম হওয়ায় এ বছর বেশি মৌচাক আমরা পেতে পারি। আমাদের সংগ্রহিত মধুর দাম বন দফতর কিছুটা এবছর বাড়ানোয় আমরা খুশি।
আমাদের মতন মানুষের পাশে থেকে কাজ করে সবসময় এপিডিআরের মতন সংগঠন।সুন্দরবনের মানুষের নার্য্য দাবিকে তুলে আনে তাঁরা। এপিডিআরের উদ্যোগে গত বছর মধুর দাম বাড়ানোর দাবিতে বন দফতরে ডেপুটেশন ও দেওয়া হয়েছিল।আরও পড়ুন:
এ ব্যাপারে এপিডিআরের জেলার সহ সম্পাদক মিঠুন মন্ডল বলেন, সুন্দরবনের খেটে খাওয়া মানুষ দের নার্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমরা লড়াই করি। মধুর দাম বাড়ানোর দাবিতে আমরা বন দফতরে ডেপুটেশন ও দিয়েছিলাম। বন দফতর আমাদের দাবি মেনে সুন্দরবনের মৌলেদের সংগ্রহিত মধুর দাম বাড়ানোয় আমরা খুশি।
আরও পড়ুন:
এ বছর মৌলেদের নিরাপত্তার জন্য ‘অপারেশন গোল্ডেন হানি’ নামক বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে বন দফতরের উদ্যোগে। এর মাধ্যমে মৌলেরা সুন্দরবনের যে এলাকায় মধু সংগ্রহ করবেন, বন দফতরের একটি টহলদারি দলও সেখানে থাকবে। মৌলেরা সমস্যায় পড়লে, টহলদারি দল দ্রুত পৌঁছে তাদের সাহায্য করবে।তাছাড়া মৌলেদের জন্য মাথা-পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা বিমার ব্যবস্থাও করেছে বন দফতর। সব মিলিয়ে সুন্দরবনের মৌলেদের পাশে রাজ্য বন দফতর।