পুরুলিয়ার বামনিয়া ডাকবাংলো ময়দানে নির্বাচনী সভা থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপি লাগাতার বঞ্চনা করে চলেছে। ওদের হাতে বঞ্চনার রিমোট কন্ট্রোল থাকলে আপনাদের হাতে আছে ইভিএম। বোতাম টিপে এমন জবাব দিন, যাতে দিল্লির বঞ্চনার খেলা শেষ হয়ে যায়।”

শুক্রবার একদিনে পুরুলিয়ার জয়পুর, বাঁকুড়ার পাত্রসায়র এবং আরামবাগের খানাকুল—এই তিনটি জায়গায় পরপর সভা করেন তিনি।

প্রতিটি সভাতেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, গত এক দশকে দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে চাপ বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, রান্নার গ্যাস, পেট্রোল-ডিজেল থেকে শুরু করে কেরোসিন—সব কিছুর দামই বহুগুণ বেড়েছে।

কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি আরও বলেন, নোটবন্দি, অপরিকল্পিত লকডাউন কিংবা এলপিজি নীতির মতো সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষকেই ভুগতে হয়েছে। তাঁর কথায়, “মোদি সরকার মানুষকে লাইনে দাঁড় করাতে ভালোবাসে, কিন্তু এবার মানুষ ইভিএমের লাইনে দাঁড়িয়ে জবাব দেবে।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক অভিযোগ করেন, বাংলার প্রতি আর্থিক বঞ্চনা করা হচ্ছে। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, জল প্রকল্প—বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রীয় অর্থ আটকে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “দিল্লি রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে বাংলার টাকা আটকে রাখতে পারে, কিন্তু মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।”

রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “দিদি দিচ্ছে, মোদি লুটছে”—এই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।