পুবের কলম প্রতিবেদক: ভিন রাজ্যে অপরাধীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে টাকার জন্য পদে পদে হোঁচট খাওয়ার অভিজ্ঞতা কম নেই কলকাতা পুলিশের অফিসারদের।
আরও পড়ুন:
তারপরেও এতদিন অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের উদ্যোগে আর্থিক সমস্যা মিটিয়ে ভিন রাজ্য থেকে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করে গারদেও ভরেছেন তাঁরা। কিন্তু সরকারি স্তরে টাকার সমস্যা রয়েই গিয়েছিল। এ বার তদন্তের কাজে আর বাধা হবে না আর্থিক সঙ্কট।
আরও পড়ুন:
সৌজন্যে, লালবাজারের ‘ইনভেস্টিগেশন ফান্ড’ বা তদন্ত তহবিল। লালবাজার সূত্রের খবর, অপরাধ কবে ঘটবে, কবে তদন্তকারী অফিসাররা ভিন রাজ্যে যাওয়ার জন্য টাকা চাইবেন--সে সব ভেবে সময় নষ্ট করতে চাইছেন না পুলিশকর্তারা। আগে থেকেই তহবিল গড়ে বিভাগীয় ডিসি-দের অগ্রিম টাকা দিয়ে দেবে লালবাজার।
প্রয়োজন অনুযায়ী খরচ করে হিসেব দিলেই হলো!আরও পড়ুন:
অনেক সময়ে দেখা যেত, ভিন রাজ্যে কোনও দুষ্কৃতী বা অপরাধীর খোঁজ পাওয়া গেলেও তাকে ধরতে গিয়ে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে টাকা।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে সেখানে পৌঁছতে হবে, কোথায় গিয়ে থাকা হবে, তা নিয়ে জেরবার হয়ে যেতেন পুলিশের একাংশ। তা নিয়ে নিচুতলায় ক্ষোভও ছিল। সরকারি কোষাগার থেকে টাকা রিলিজ করার নিয়মকানুনের জন্যেই এমন সমস্যা হতো! এই সব জটিলতায় পরোক্ষভাবে প্রভাব পড়ত তদন্তকারী দলের উপরও। দলে বিভিন্ন পদের অফিসারেরা যেমন একই হোটেলে থাকতে পারতেন না, তেমনই আবার ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর জন্যে গাড়ি ভাড়ার টাকা বরাদ্দেও ছিল বৈষম্য।
এ বার কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের অফিস থেকে ‘ইনভেস্টিগেশন ফান্ড’-এর বিষয়ে সব ডিসি-কে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
লালবাজারের উদ্দেশ্য, অপরাধীকে ধরতে গিয়ে যদি সাতজনের দল গঠন করা হয়, তাহলে প্রত্যেকেই একই সুবিধা পাবেন। তার জন্য লাল ফিতের ফাঁসে পড়তে হবে না কাউকে। দলে যদি আইপিএস অফিসারও থাকেন, তাঁর সঙ্গে বিমানের পাশের আসনে বসে যেতে পারবেন কনস্টেবল পদের পুলিশকর্মীও
আরও পড়ুন:
তাতে দ্রুত অপরাধীকে পাকড়াও করতে পারবেন তদন্তকারী দলের অফিসারেরা। ‘একটি দল’ হয়েই কাজ করতে পারবেন তাঁরা। শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, ইতিমধ্যে ডিসি অফিসে তহবিলের টাকা পাঠানো হচ্ছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন:
এ বিষয়ে লালবাজারের এক পদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য, ‘ভিন রাজ্যে গেলে টাকা নিয়ে একটা সমস্যা থাকে।
অনুমোদন লাগে। সবাই সব ধরনের সুবিধা পান না। কিন্তু দলের প্রত্যেকেরই গুরুত্ব রয়েছে। তা হলে টাকার ক্ষেত্রে বৈষম্যও থাকা উচিত নয়। তদন্তের প্রয়োজনেই আলাদা করে তহবিল গড়ে দেওয়া হল। এর পরেও যদি টাকার প্রয়োজন পড়ে তা-ও হলেও দেবে লালবাজার। নাগরিকদের নিরাপত্তায় কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না।’