পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে ফের ধর্মীয় মেরুকরণ অস্ত্রে ভোটারদের মনজয়ের চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার প্রথম দফার ভোটের দিন উত্তরপ্রদেশের আমরোহার জনসভা থেকে মোদি স্পষ্ট বলেন, তাঁর প্রতিপক্ষ কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। তারা সনাতন ধর্মের অপমান করছে। যোগীর গড়ে দাঁড়িয়ে মোদি বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশে ফের ওই দুই রাজকুমারের সিনেমার শুটিং শুরু হয়েছে। মানুষ আগেই ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
ওরা পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি আর তোষণের ঝুড়ি সাজিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছে। আমাদের ধর্মীয় ভাবনায় আঘাত করার কোনও সুযোগ এরা ছাড়ে না।’আরও পড়ুন:
আমরোহা থেকে কংগ্রেস প্রার্থী দানিশ আলীকে কটাক্ষ করে মোদি দাবি করেন যে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতেও ওনার আপত্তি আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভারত মাতা কি জয় মেনে নিতে পারে না, তিনি কি ভারতীয় সংসদে মানানসই? এমন ব্যক্তিকে কি ভারতীয় সংসদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত?
’ আমরোহা থেকে মোদির অভিযোগ, ‘অযোধ্যায় যখন রামমন্দির তৈরি হল, কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি প্রাণপ্রতিষ্ঠার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছিল। রোজ ওরা রামমন্দির এবং সনাতন ধর্মকে রোজ আক্রমণ করছে। এমনকী যে সব রামভক্ত রামলালার সূর্যতিলক নিয়ে আনন্দিত হয়েছেন, তাঁদেরও ওরা অপমান করেছে।’আরও পড়ুন:
সার্বিকভাবে যাদবদের কটাক্ষ করেন মোদি। তেজস্বী যাদবের নাম করে তিনি বলেন, বিহারে ও উত্তর প্রদেশে যদুবংশী বলে কিছু নেতা আসলে রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন।
আমি ওদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, যদি ওরা যদুবংশী হয়ে থাকে তাহলে যারা লর্ড কৃষ্ণকে অপমান করে ওরা তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে কেমন করে ?আরও পড়ুন:
শুক্রবার প্রচারে মোদি বলেন, আগের সরকারগুলি সামাজিক ন্যায়বিচারের নামে এসসি, এসটি এবং ওবিসিদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সমাজ সংস্কারক জ্যোতিবা ফুলে, বি আর আম্বেদকর এবং চৌধুরী চরণ সিংয়ের স্বপ্ন সফল করার জন্য আমি দিন রাত কাজ করছি। অনেকে বলছেন, বিকশিত ভারতের স্বপ্ন দেখিয়েই ভোটারদের মনজয় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিরোধীদের হাতে ইলেক্টোরাল বন্ড ‘দুর্নীতি’ অস্ত্র চলে আসায়, সম্ভবত খানিক ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন মোদি। সে কারণে ভোটপ্রচারের শুরুর থেকেই ধর্মকে হাতিয়ার করছেন মোদি। বিজেপি হিন্দু, আর বাকিরা ধর্ম নিরপেক্ষ দলগুলি হিন্দু বিরোধী একথা প্রমাণ করতে এদিনও মরিয়া ছিলেন মোদি। প্রথম দফা ভোটের দিনও ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির বিরুদ্ধে ধর্ম ইস্যুতে ভোটারদের মন বিষিয়ে দিতে চাইলেন মোদি।