বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের কোচবিহার ও দক্ষিণবঙ্গের দমদমে নির্বাচনী সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে এখন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে সামনে এনে ভোটের ময়দানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, “বিজেপির বিষদাঁত ভাঙবই। গণতন্ত্রে বুলেট নয়, আঘাত হবে ব্যালটে।
”আরও পড়ুন:
মমতার অভিযোগ, বিজেপি বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে এনে ভোটে ফায়দা তুলতে চাইছে। কিন্তু সেই কৌশল সফল না হওয়ায় এখন ইডি, সিবিআই, এনআইএ এবং আয়কর দফতরকে ব্যবহার করা হচ্ছে তৃণমূল প্রার্থীদের চাপে রাখতে।
আরও পড়ুন:
কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানের সভা থেকে তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা-কেও নিশানা করেন। মমতার অভিযোগ, “অসম থেকে লোক এনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্যে ভোট করানোর চেষ্টা চলছে।
কিন্তু বাংলার মানুষ এই চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেবে।”এদিন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সরব হয়ে মমতা দাবি করেন, কোচবিহারে প্রায় আড়াই লক্ষ রাজবংশী ও নস্যশেখ সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তাঁর কথায়, “সামনাসামনি লড়াই করার ক্ষমতা নেই বলেই এনআরসি ও ভোটার তালিকার নামে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” একইসঙ্গে তিনি রাজবংশী ভাষার স্বীকৃতি, উন্নয়ন পর্ষদ গঠন এবং কোচবিহারকে হেরিটেজ শহর ঘোষণার কথা তুলে ধরে রাজ্য সরকারের কাজের কথা স্মরণ করান।
আরও পড়ুন:
বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রীর বার্তা, “অত্যাচারের বদলা নিন ভোটে। বিজেপিকে ভোট দেবেন না, যাতে বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত সফল না হয়।” তাঁর দাবি, বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে তৃণমূল পিছিয়ে থাকবে না।
আরও পড়ুন:
এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি বলেন, “আমাকে জব্দ করতে না পেরে আমার দল আর সাধারণ মানুষকে ডিস্টার্ব করা হচ্ছে।” পাশাপাশি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তাঁর মন্তব্য, “আমার সাহস আছে, পারলে আমার সঙ্গে লড়ো। বহিরাগত বাহিনী এনে লাভ হবে না, গণতন্ত্রের শক্তিই শেষ কথা বলবে।”