মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান থেকে ইসরায়েল-এর বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার রাজধানী তেল আবিব, জেরুজালেম, মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় দফায় দফায় সাইরেন বাজিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালালেও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ভূখণ্ডে আঘাত হানে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ছবিতে তেল আবিবের আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরগুলোর আলোর ঝলকানি দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে দেশজুড়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলায় ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ-বোমা ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের সময় অসংখ্য ছোট বোমায় বিভক্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়।
ইসরায়েলের অন্তত আটটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এরই মধ্যে উত্তর ইসরায়েলের কিছু এলাকায় সতর্কতা জারি তুলে নেওয়া হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
গত কয়েক দিন ধরে উত্তর সীমান্তে হামলার তীব্রতা বেড়েই চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত এখন দ্বিমুখী চাপে রূপ নিয়েছে। একদিকে ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, অন্যদিকে হিজবুল্লাহ-র নিয়মিত রকেট ও ড্রোন হামলায় উত্তর সীমান্তের জনপদগুলো প্রায় খালি হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান-ইসরায়েলের এই সরাসরি সংঘাত দ্রুত একটি বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। ইরান জানিয়েছে, তাদের ওপর চালানো আগের হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসরায়েল তাদের বিমান বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, আর এই পরিস্থিতি বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা