পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বেপরোয়া লরির ধাক্কায় বেহালায় মর্মান্তিক মৃত্যু দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রের। আহত ছাত্রের বাবা। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনায় অগ্নিগর্ভ বেহালা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। নামানো হয় র্যাফ। মৃত শিশু সৌরনীল সরকারের বয়স সাত বছর। ২৫ আগস্টই জন্মদিন ছিল তার।
আরও পড়ুন:
বেহালার চৌরাস্তার কাছে বড়িশা স্কুলের সামনে সাত সকালেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বাবার সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছিল ওই ছাত্র। স্কুলে পরীক্ষা ছিল আজ। ঘটনাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ঘটনাস্থল। যানজটে পড়ে মানুষ। ডায়মন্ড হারবার রোড সহ আশপাশের সবকটি রাস্তাই প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে যায়। প্রায় তিনঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে রাস্তা।আরও পড়ুন:
আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে একের পর এক পুলিশের গাড়িতে। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ঘটনাস্থলে যায় বিরাট পুলিশ বাহিনী। স্কুলের সামনে পড়ুয়াদের সুরক্ষা কোথায়, এই প্রশ্ন তুলেই বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অভিভাবকেরা।
তাঁদের অভিযোগ, ওই রাস্তায় ট্রাফিকের কোনও নিয়ম মানা হয় না, সে দিকে কোন নজরই নেই পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগও জানাচ্ছেন তাঁরা।আরও পড়ুন:
বিক্ষোভকারীদের দাবি, পুলিশ টাকা নেয় বলেই ওই রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে বেরিয়ে যায় লরি। তার জেরেই আজকের এই ঘটনা বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। প্রথমে পুলিশ ভ্যান ও পরে বাইকে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, ভাঙচুর চালানো হয় বাসে। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে দফায় দফায় লাঠিচার্জ করছে পুলিশ। নামানো হয়েছে র্যাফ।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের সামনে কেঁদে ফেলেন স্কুলের প্রধানশিক্ষক।
তিনি বলেন, এই ঘটনার পিছনে পুলিশের গাফিলতিই দায়ী। আমরা স্কুলে ঢুকে খবর পাই আমাদের বাচ্চাটিকে পিষে মেরে দিয়েছে। আমরা গিয়ে ওর বাবাকে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে পাঠাই। তখনও পুলিশ ছিল না।আরও পড়ুন:
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) বিনীত গোয়েল। তিনি বলেন, ‘‘যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমনটা নয় যে ওখানে পুলিশ ছিল না বা থাকে না। আগের থেকে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে। ভবিষ্যতে যাতে এই ঘটনা না হয়, সেটা দেখা হবে'।
আরও পড়ুন: