পারিজাত মোল্লা: বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এর এজলাসে উঠে পুলিশি নিস্ক্রিয়তা সংক্রান্ত মামলা। রক্তপাত না হলেও আক্রান্তের দেহের আঘাত গুরুতর। তবু খুনের চেষ্টার পরিবর্তে লঘু ধারায় মামলা করার অভিযোগ উঠেছে নদীয়া পুলিশের বিরুদ্ধে। এই মামলা গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে।

এই মামলাতেই এবার থানার আইসি এবং তদন্তকারী অফিসার কে সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট এর সিঙ্গেল বেঞ্চ।এদিন এই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। নদিয়ার শান্তিপুরের ঘটনা এটি ।

আগামী মঙ্গলবার এই মামলার কেস ডায়েরি সহ আইসি ও আইও-কে সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
জানা গিয়েছে, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে শান্তিপুরের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা টাকা হাতানোর গুরুতর অভিযোগ ওঠে এলাকার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী সেলিম মালিতার অভিযোগ, -'তার স্বামীকে কৃষি দফতরের গ্রুপ ডি পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত চার লাখ টাকা নেয়'। কিন্তু চাকরি দিতে না পারায় টাকা ফেরত চাইতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে তাঁর স্বামীকে লোহার রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্তের মারধরে গুরুতর আহত হলেও আক্রান্তের রক্তপাত না হওয়ায় পুলিশ হালকা ধারা প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি সুবিচার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন সেলিম মালিতা। ওই মামলাতেই পুলিশ কেন দেহে আঘাত করার মতো হালকা ধারা প্রয়োগ করল, কেন খুনের চেষ্টার অভিযোগ রুজু করল না? এই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি। আগামী মঙ্গলবার আদালতে যে প্রশ্নের দিতে হবে নদিয়ার শান্তিপুর থানার আইসি ও আইও-কে।
মারধরের অভিযোগ আছে, রক্তপাত না হলেও গুরুতর আঘাত।

কিন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে সঠিক ধারা প্রয়োগ না করার অভিযোগ উঠল। এর জেরেই থানার আইসি এবং আইওকে সশরীরে হাজিরার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। নদীয়ার শান্তিপুরের এই ঘটনায় বড় প্রশ্নও তুলেছে আদালত। কেন খুনের চেষ্টার অভিযোগ নয়? জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে এলাকার এক ব্যক্তির থেকে মোটা টাকা হাতানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল অন্য এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

কৃষি দফতরের গ্রুপ-ডি পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত চার লক্ষ টাকা নেয় বলে দাবি।
কিন্তু সেই চাকরি সে দিতে পারেনি। উলটে, টাকা ফেরত চাইতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে মামলাকারীকে লোহার রড দিয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এদিকে পুলিশে এই বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করার পর খুনের চেষ্টা মামলা করা হয়নি বরং রক্তপাত না হওয়ায় পুলিশ হালকা ধারা প্রয়োগ করে। এতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।পুলিশের কাছ থেকে কোনও সাহায্য না পেয়েই অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী সেলিম মালিতা। তাঁর স্বামীকে এইভাবে মারার পরেও কেন অভিযুক্তের কিছু হবে না, বা তাঁর বিরুদ্ধে কেন হালকা ধারায় মামলা হবে, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।

তার প্রেক্ষিতেই নদীয়ার শান্তিপুর থানার আইসি এবং আইওকে কেস ডায়রি সহ হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। ওইদিনই শান্তিপুর থানার ওসি সহ তদন্তকারী পুলিশ অফিসার কে সশরীর হাজিরা দিয়ে কারণ দর্শাতে হবে গুরতর অভিযোগে লঘু ধারা দেওয়ার জন্য।