পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালিয়েছে ও জলকামান ব্যবহার করেছে, ঘটনায় আহত হয়েছেন একাধিক বিক্ষোভকারী। ‘সাবা সাবা’ বা ৭ জুলাইয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ৩৫তম বর্ষপূর্তিতে প্রতিবাদে নামে শত শত মানুষ।

সোমবারের এই বিক্ষোভ ছিল ১৯৯০ সালের ৭ জুলাইয়ের মাল্টি পার্টি গণতন্ত্রের দাবিতে হওয়া ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মরণে। এই দিনটিতে প্রতিবছরই কেনিয়াবাসী স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের কথা স্মরণ করে থাকেন। তবে এ বছরের আন্দোলন একাধিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে আরও বিস্তৃত হয়েছে—মূল দাবি প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর পদত্যাগ।

আল জাজিরার সাংবাদিক ম্যালকম ওয়েব নাইরোবি থেকে জানিয়েছেন, রাজধানী যাওয়ার রাস্তাগুলি বন্ধ করে রেখেছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা সেইসব রাস্তায় পৌঁছানোর চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।

তিনি বলেন, "আমরা একাধিক এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ আহতদের খবর পেয়েছি।

" এম্বুল্যান্স পাঠানো হয়েছে আহতদের উদ্ধারে। বিক্ষোভ শুধু রাজধানীতে নয়, দেশের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এটি প্রথম নয়। পুলিশি নির্যাতন, দুর্নীতি ও সরকারের সমালোচকদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত মাসেও রাস্তায় নেমেছিলেন মানুষ। সেই সময়েও সহিংসতার জেরে বহু মানুষ নিহত ও হাজার হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়। পরিস্থিতির আশঙ্কায় বেশিরভাগ স্কুল ও অন্তত একটি বড় শপিং মল বন্ধ রাখা হয়েছে।

ফ্রান্সিস ওয়াসওয়া, এক নির্মাণ শ্রমিক বলেন, “আমরা বাড়ি ফিরব না, কারণ তাহলে আমাদের অধিকারের জন্য লড়বে কে?” তিনি জানান, তাঁরা সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারের মদতে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের দিয়ে আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকার বলেছে, এই আন্দোলন ‘কু’ প্রচেষ্টার সমান।

রবিবার কিপচুম্বা মুরকমেন, অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী বলেন, “শান্তিপূর্ণ মিছিলকে গণ্ডগোলের মাধ্যমে ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”

রবিবার কেনিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে লাঠি হাতে কয়েকজন জোর করে ঢুকে পড়ে, যার ফলে সম্মেলন বাতিল করতে হয়।

গত জুনে ব্লগার ও শিক্ষক আলবার্ট ওজওয়াংয়ের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু এই আন্দোলনের পেছনে বড় কারণ। ঘটনায় ৩ পুলিশ-সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ গৃহীত হয়েছে। সকলেই আদালতে নির্দোষ দাবি করেছেন।

সরকার-নিযুক্ত মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, মাত্র এক মাসের আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন অংশে ১৯ জন মারা গেছেন। জুন ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮০ জন নিহত এবং বহুজন বেআইনিভাবে আটক হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো ২০২২ সালে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি প্রধান বিরোধী নেতা রাইলা ওডিঙ্গার সঙ্গে জোট গঠন করায় ২০২৭ সালের নির্বাচনে তাঁর সামনে তেমন কোনও চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে না।

সোশ্যাল মিডিয়া ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। কেনিয়ায় প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ অনিয়মিত ও কম মজুরির চাকরিতে যুক্ত।

নেতৃস্থানীয় সমাজকর্মী হানিফা আদেন X (টুইটার)-এ লিখেছেন, “পুলিশ বৃষ্টিতে ভিজছে আর আমরা ঘরে শুয়ে আছি। এ এক বাধ্যতামূলক ছুটি ও সম্পূর্ণ বন্ধ যা সরকার জোর করে চাপিয়ে দিয়েছে।”