পুবের কলম প্রতিবেদক:  রাজ্যের যুবক যুবতীদের জন্য আবারও বিশেষ উদ্যোগ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ।  এবার ১০ হাজার ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড। ৩০০ কোটির ঋণ দেওয়া হবে। বাংলার বেকার যুবক যুবতীদের ব্যবসামুখী করতে আর্থিক সহায়তার দরজা আরও বড় করে খুলে দিচ্ছে রাজ্য সরকার ।

আগামী ২৩ আগস্ট কলকাতার বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে উঠতি ব্যবসায়ীদের হাতে এই ভবিষ্যত ক্রেডিট কার্ড তুলে দেবেন। সেখানেই ব্যাঙ্কের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ঘোষিত হবে ৩০০ কোটির আর্থিক সহায়তার কথা। আর এই কর্মসূচি ঘিরে যুবাদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা।

বাংলায় কর্মসংস্থানে জোয়ার আনতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক পদক্ষেপ করেছেন। কখনও বড় বড় শিল্পসংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে শিল্পের উপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন।

 কখনও আবার সরাসরি চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। সম্প্রতি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে আরও বিনিয়োগ টানতে বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছেন। যার পোষাকি নাম দেওয়া হয় ‘শিল্পের সমাধানে’।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ব্লক স্তরেও গড়ে উঠছে ক্ষুদ্র শিল্প।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ১ আগস্ট থেকে শুরু হয় শিল্পের সমাধান কর্মসূচি। যা চলবে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত।  নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্য স্তরের অনুষ্ঠান ২৩ আগস্ট বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে। আসলে সরকারের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ‘ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প মাস’ হিসেবে উদযাপিত হবে আগস্ট। সেই হিসাবে জেলার প্রতিটি ব্লকে, শিল্পের সমাধানে-র ক্যাম্প বসে।

কলকাতা পুরসভার সব বরোতেও এই শিবির হচ্ছে। অন্যান্য পুরসভা ও মিউনিসিপ্যালিটিতে মহকুমা স্তরে ক্যাম্প চলছে। যেখানে ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ড, কৃষি পরিকাঠামো তহবিল প্রকল্পের ঋণ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর জন্য ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। প্রতিটি শিবিরেই মজুত থাকছেন বিভিন্ন ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি। ঋণের জন্য সবরকমভাবে সহায়তা করা হচ্ছে নতুন শিল্পোদ্যোগীদের।

এই কর্মসূচির পাশাপাশি, সরকারের বিভিন্ন সুবিধা পেতে ‘উদ্যম’ পোর্টালে নাম নথিভুক্তিকরণের কাজও হচ্ছে। এই সব ছোট শিল্পদ্যোগীদের নতুন শিল্প স্থাপনে পরিবেশ, দমকল-সহ বিভিন্ন ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করা হচ্ছে। প্রথম দিনই রাজ্যজুড়ে ১৬৬টি শিবিরে অংশ নেন ১২,২৪২ জন মানুষ। এমএসএমই পোর্টালে নাম তোলেন ৩৭৪৫ জন তাঁত শিল্পী।

প্রায় ৩ হাজার ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্প সংস্থা উদ্যম পোর্টালে নাম তোলে। ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের জন্য জমা পড়ে ২৭০০-র বেশি আবেদনপত্র।

এরপর ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে সুবিধাভোগীর সংখ্যা। সপ্তাহ শেষে শিবিরের সংখ্যা বেড়ে ৯৩১ হয়। এমএসএমই পোর্টালে নাম তোলেন ৬৫ হাজার ২২৫ জন তাঁত ও অন্যান্য শিল্পী। উদ্যম পোর্টালে ৩৪ হাজার ৭২৬ জন নাম নথিভুক্ত করেন। ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন জমা পড়ে ৩১ হাজার ৬৯১টি। নবান্ন সূত্রে খবর ১৮ আগষ্টের মধ্যে ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডে আবেদনকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। রাজ্যের অর্থদপ্তর ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে বসেছে । যাতে দ্রুত উঠতি ব্যবসায়ীদের ঋণদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করা যায়। আবেদনকারিরা কেউ যাতে নিরাস না হয় সেদিকও খতিয়ে দেখা হবে।