পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভারত ও নেপালের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যা মেটাতে তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা স্পষ্ট ভাষায় খারিজ করে দিল নয়াদিল্লি। সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বিবাদ নিরসনে চিন ও যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেন) সহযোগিতা চাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পরই ভারতের পক্ষ থেকে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তাঁর সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত ও নেপালের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে অন্য কোনও দেশের নাক গলানোর কোনও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “সীমান্ত সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য দুই দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই সুনির্দিষ্ট দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সবার এটা স্পষ্ট বোঝা উচিত যে, ভারত ও নেপালের এই দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তৃতীয় কোনও পক্ষের কোনও ভূমিকা থাকতে পারে না।”আরও পড়ুন:
র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ গত রবিবার সে দেশের সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত আলোচনার পাশাপাশি নেপাল এই বিষয়ে চিন এবং ব্রিটেনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি— এই তিনটি বিতর্কিত অঞ্চল ভারত ও চিন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। ব্রিটিশ আমলের প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, “যেহেতু এই সমস্যাটির সূত্রপাত ব্রিটিশরা এই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার সময় থেকে, তাই আমাদের মনে হয় এই বিষয়ে ইংল্যান্ডকে (যুক্তরাজ্য) অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
”আরও পড়ুন:
নেপালি প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই সে দেশের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। নেপালি কংগ্রেসের বাসনা থাপা এবং নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির রমেশ মাল্লার মতো বিরোধী সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন এবং এটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। বিরোধীদের চাপ ও বিতর্কের মুখে পড়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে নেপালের বিদেশ মন্ত্রক। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যটি কোনও ভূখণ্ডগত দাবির উদ্দেশ্যে ছিল না, বরং তা দুই দেশের ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’ দখল এবং আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলির ওপর আলোকপাত করার জন্য বলা হয়েছিল।