পুবের কলম প্রতিবেদক: মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দা ও বিএলও (BLO) মায়া মুখোপাধ্যায়ের (৫৮) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি নামুপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকা ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, SIR সংক্রান্ত কাজের অতিরিক্ত মানসিক চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মায়া, যার জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

মৃতের ছোট ছেলে রুবেল মণ্ডল জানান, BLO-র দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তাঁর মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন। উদ্বেগ ও চাপ সামলাতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন। রুবেলের দাবি, “২৫১ নম্বর বুথে মায়ের অধীনে ৮৩০ জন ভোটার ছিলেন।
এর মধ্যে ৩২০ জনের হিয়ারিং নোটিস আসে। নাম বাদ পড়লে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির আক্রোশের আশঙ্কায় মা আতঙ্কে থাকতেন। বারবার বলতেন, এই চাপ আর সহ্য করতে পারছেন না।” পরিবারের অভিযোগ, এই মানসিক চাপ থেকেই বৃহস্পতিবার ভোররাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন মায়া মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর মৃত্যু হয়। হরিহরপাড়ার বিডিও সেরিং জাম ভুটিয়া জানান, “একজন BLO-র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। শুনেছি তিনি আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আমাদের তরফে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।”

এদিকে, এই ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল বিধায়ক নিয়ামত শেখ অভিযোগ করেন,“SIR প্রক্রিয়া চালুর পর থেকেই বহু BLO আতঙ্কে রয়েছেন। অনেকেই আমাদের কাছে এসে বলেছেন, কাজের চাপ সহ্য করতে পারছেন না। চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা কাজ করছেন।” সিপিএম নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক ইনসার আলি বিশ্বাস বলেন,“SIR-এর নামে BLO-দের উপর অমানবিক চাপ দেওয়া হচ্ছে।

তার ফলেই তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।”

কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গির শাহ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করে বলেন,“এই মৃত্যুর দায় এড়ানো যায় না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জবাব দিতে হবে।” অন্যদিকে বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,“তৃণমূলের চাপেই BLO-রা বিপাকে পড়ছেন। মৃত ভোটার ও অনুপ্রবেশকারীদের নাম রাখার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই কারণেই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।”