পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ সংরক্ষণ ইস্যু নিয়ে উত্তপ্ত মহারাষ্ট্র। বিক্ষোভকারীদের রোষের কবলে পড়েছেন এনসিপির-র দুই বিধায়ক। ইস্তফা দিয়েছেন শিবসেনার দুই সাংসদ । মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত, নাসিক ও হিনগোলির দুই সাংসদ তাঁদের পদে ইস্তফা দিয়েছেন। অন্যদিকে শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে মঙ্গলবার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মারাঠা সংরক্ষণের সমস্যা সমাধানের জন্য কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
এক সাংবাদিক সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রের সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সংরক্ষণের বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত। তিনি মারাঠা সংরক্ষণের দাবি পূরণ না হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ঠাকরে বলেন, এই সমস্যাটি কেন্দ্রের সুরাহা করা উচিত। এটি শুধুমাত্র লোকসভাতেই সমাধান করা যেতে পারে। আমি এটি বলে আসছি এবং আমি আবারও বলছি যে সরকারকে সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকতে হবে (ইস্যুটি সমাধান করার জন্য)।
এমনকি যদি রাজ্য বিধানসভার একটি বিশেষ অধিবেশনের প্রয়োজন হয় তবে এটি আহ্বান করা উচিত। শিবসেনা (ইউবিটি) সভাপতি বলেন, মারাঠা সংরক্ষণ ইস্যুতে রাজ্যে অস্বস্তি রয়েছে। মারাঠা কোটা সংরক্ষণ নিয়ে রাজনীতিবিদদের বাসভবন ও অফিস ভাঙচুরের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে মহারাষ্ট্রের কিছু অংশে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সমাজকর্মী মনোজ জারাঙ্গে মারাঠা সংরক্ষণের দাবিতে জালনা জেলার অন্তরওয়ালি সরাটি গ্রামে ২৫ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন করছেন। এদিন তাঁর অনশন ৭ দিনে পড়ল এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। তাই মারাঠা সম্প্রদায়ের প্রতি বিশেষ অনুভূতি থেকে তিনি সংসদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন বলে জানিয়েছেন গডসে।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, মারাঠাদের সংরক্ষণের দাবিকে সমর্থন জানিয়েই এদিন সাংসদ পদে ইস্তফা দেন একনাথ শিন্ডে ঘনিষ্ঠ নেতা হেমন্ত পাটিল ও হেমন্ত গডসে। পাটিল পদত্যাগপত্রে লিখেছেন,দগত কয়েক বছর ধরে মারাঠা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়েছে। এই সম্প্রদায়ের একজন কর্মী হিসাবে আমি মারাঠা সংরক্ষণের আন্দোলনের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন জানাই এবং তাই আমি পদত্যাগ করছি। আবার হেমন্ত গডসে মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে লিখেছেন, মারাঠা সম্প্রদায়কে সংরক্ষণের জন্য দশেরার সমাবেশে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের আবক্ষ মূর্তির সামনে আপনি শপথ নেওয়ার পর মারাঠা সম্প্রদায়ের সদস্যরা আশ্বস্ত বোধ করেছিলেন। কিন্তু, তাঁর সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ইস্যু নিয়ে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ গডসের।