পারিজাত মোল্লা: শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে উঠে নির্বাচনী নথি জালিয়াতি মামলা। উলুবেড়িয়ার এসডিও এবং উলুবেড়িয়া ১ নং এর বিডিও-র বক্তব্য না শুনে বরাখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া যাবে না। এদিন সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে এমনটই জানাল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে, সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রেখেছে আদালত। রায় বহাল থাকা অবস্থাতেই ফের শুনানি হবে । মনোনয়নপত্র ও জাতিগত শংসাপত্র বিকৃতি মামলায় উলুবেড়িয়া ১ নং এর বিডিও এবং উলুবেড়িয়ার এসডিও-কে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করেছিলেন উলুবেড়িয়ার এসডিও শমীক ঘোষ।
আরও পড়ুন:
এদিন সেই আবেদনের শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে উলুবেড়িয়ার এসডিও এবং উলুবেড়িয়া ১ নং এর বিডিও-র বক্তব্য ভালো করে শুনতে হবে সিঙ্গল বেঞ্চকে।
তার পরেই কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দিতে পারবেন বিচারপতি। গত ২৭ জুলাই বিচারপতি অমৃতা সিনহার সিঙ্গল বেঞ্চ উলুবেড়িয়ার এসডিও এবং উলুবেড়িয়া ১ নংএর বিডিও-কে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মতো ৩১ জুলাই সরকার তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বলে এদিনকার শুনানিতে জানিয়েছেন রাজ্যের আইনজীবী। কিন্তু, ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের সেই নির্দেশিকা খারিজ করেনি। তা বজায় রেখেই সিঙ্গল বেঞ্চকে উলুবেড়িয়ার এসডিও এবং উলুবেড়িয়া ১ নং এর বিডিও-র বক্তব্য শুনতে বলেছে।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় মনোনয়ন পেশের পর স্ক্রুটিনির সময় কাশ্মীরা বেগম খানের মনোনয়নপত্র বিকৃত করা হয়। এমনকি ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করার অভিযোগ ওঠে উলুবেড়িয়ার এসডিও এবং উলুবেড়িয়া ১ এর বিডিও-র বিরুদ্ধে । যে ঘটনায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়।
আরও পড়ুন:
সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য সরকার। ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ করে দেয় এবং প্রাক্তন বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে এক সদস্যের কমিশন গঠন করে। তাঁর উপর দায়িত্ব পরে এসডিও এবং বিডিও-র বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে, একটি রিপোর্ট সিঙ্গল বেঞ্চে জমা করার।
আরও পড়ুন:
সেই রিপোর্টে প্রাক্তন বিচারপতি উল্লেখ করেন, কাশ্মীরা বেগম খানের মনোনয়নপত্র এবং ওবিসি নথি বিকৃতির অভিযোগের সারবত্তা রয়েছে। ১৯ জুলাই সেই নথি হাইকোর্টে জমা পড়ে। ২৭ জুলাই বিচারপতি অমৃতা সিনহা সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে এসডিও এবং বিডিও-সহ অনগ্রসর শ্রেণি দফতরের এক আধিকারিককে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। আর ৩১ জুলাই রাজ্য সরকার সেটি কার্যকর করে। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ফের আদালতে গিয়েছিলেন উলুবেড়িয়ার এসডিও এবং উলুবেড়িয়া ১ এর বিডিও ।
এদিন তারই শুনানি ছিল । বিচারপতি অরিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ পড়ে দেখেন । সেখানে তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, উলুবেড়িয়ার এসডিও এবং উলুবেড়িয়া ১ এর বিডিও-কে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছিল সিঙ্গল বেঞ্চ । এর পর ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনের রিপোর্ট খতি দেখে । তা দেখার পর বিচারপতি অরিজিত্ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ উল্লেখ করে, ''কমিশনের রিপোর্ট কোথাও উলুবেড়িয়ার এসডিও এবং উলুবেড়িয়া ১ এর বিডিও-কে বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়নি । বরং শৃঙ্খলাভঙ্গ জনিত ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছিল ।''কিন্তু, ডিভিশন বেঞ্চ এও জানিয়ে দেয়, কমিশনের রিপোর্টের প্রেক্ষিতে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকলে, সে ব্যাপারে ডিভিশন বেঞ্চ হস্তক্ষেপ করবে না । তবে, সিঙ্গল বেঞ্চে মামলাটি ফিরিয়ে দিয়ে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, উলুবেড়িয়ার এসডিও শমীক ঘোষ এবং বিডিও নীলাদ্রি শেখর দে-র বক্তব্য শুনতে হবে । তার পর সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁর রায় দেবে । এখন দেখার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের চুড়ান্ত নির্দেশ কি হয়?