পুবের কলম, ওয়েবডেস্কঃ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে প্রথম হিন্দু মন্দির নির্মাণের জন্য জমি দিল পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। হিন্দুদের মন্দির নির্মাণের জন্য জমি দেওয়ার বিষয়টি গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। গত সোমবার ইসলামাবাদের ক্যাপিটাল ডেভালপমেন্ট অথরিটি ইসলামাবাদ হাইকোর্টে জানায় হিন্দু সম্প্রদায়কে জমিদানের সিদ্ধান্ত রদ করে দেওয়া হয়েছে। ক্যাপিটাল ডেভালপমেন্ট অথরিটি বা সিডিএ-র আইনজীবী আদালতকে বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার হিন্দু সম্প্রদায়কে মন্দির নির্মাণের জন্য যে জমি দান করেছিল– সেটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে কারণ সেই জমির উপর এখনও কোনও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়নি।
আরও পড়ুন:
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইসলামাবাদের এইচ-৯/২ ব্লকে ৪ কানাল (০.৫ একর) জমি মন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়া হয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়কে। সেই জমির উপর তৈরি হওয়ার কথা ছিল একটি হিন্দু মন্দির শবদাহ চুল্লি এবং একটি কমিউনিটি সেন্টার। জমি প্রদানের সিদ্ধান্ত রদ করে দেওয়া হয়েছে এই খবর প্রচার হতেই পাকিস্তানের মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সিডিএ’র বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। তখন সিডিএ মুখপাত্র সইদ আসিফ রেজা বলেন, বহু অফিস–বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানকে সরকার যে জমি দিয়েছিল।
আরও পড়ুন:
সেখানে নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ার কারণে জমি বণ্টনের সিদ্ধান্ত রদ করে দেওয়া হয়েছে। তবে পরে 'সিডিএ’র তরফে জানানো হয় মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল সরকার প্রদত্ত জমিতে যদি সময়মতো নির্মাণকাজ শুরু না হয় তাহলে সরকার জমি ফেরত নিয়ে নেবে। কিন্তু হিন্দু সম্প্রদায়কে সরকার প্রদত্ত জমির ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয় কারণ হিন্দু সম্প্রদায়কে জমির বাউন্ডারি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে নতুন জমি দানপত্রে (অ্যালটমেন্ট লেটার) লেখা হয়েছে মন্দির– শবদাহ চুল্লি এবং একটি কমিউনিটি সেন্টার তৈরির জন্য হিন্দু সম্প্রদায়কে যে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাতে কোনও পরিবর্তন হয়নি।
আরও পড়ুন:
সিডিএ’র তরফে বলা হয় আসলে ভুল বোঝাবুঝির ফলে এই বিভ্রাট ঘটেছে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। গতবছর জুলাই মাসে দক্ষিণপন্থী দলগুলি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছিল এখন সরকার হিন্দু মন্দির তৈরির জন্য জমি এবং অর্থ দুইই দান করেছে।
আরও পড়ুন:
এই সমালোচনার পর সিডিএ মন্দিরের জমির বাউন্ডারি ওয়াল তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন বিষয়টা মিটে গেছে। সরকারপ্রাপ্ত জমিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে হিন্দুদের প্রথম মন্দির গড়ে তোলার কাজ হচ্ছে, সঙ্গে গড়ে উঠবে হিন্দুদের শবদাহ চুল্লি এবং কমিউনিটি সেন্টার। এই কাজে হিন্দুদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তানের মানবাধিকার সংগঠন এবং আমজনতা।