পারিজাত মোল্লা: কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে উঠে জাতীয় পতাকা অবমাননা বিষয়ক মামলা। বাঁশবেড়িয়া হাইস্কুলে স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকার অসম্মানের যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। বাঁশবেড়িয়া হাইস্কুলে স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা টেনে নামানোর অভিযোগে মামলা।
আরও পড়ুন:
এদিন এই অভিযোগ পেয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। রাজ্য এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। মামলাকারী শুভেন্দু অধিকারী হওয়ায় এই ঘটনায় রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা ঠিক নয় বলে এদিন এজলাসে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল সে দিন?
আরও পড়ুন:
রাজ্যের কাছে তার রিপোর্ট তলব করল হাইকোর্ট। বাঁশবেড়িয়ায় জাতীয় পতাকার অবমাননা, দেশবিরোধী স্লোগান, পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে একদল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের নির্দেশ, -'সরকারি স্কুলের ভিতরে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। রাজ্য অভিযোগ খতিয়ে না দেখে কে মামলা করেছে সেইদিকে তাকিয়ে রয়েছে, এটা ঠিক নয়।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বাঁশবেড়িয়া হাইস্কুলে ঠিক কী ঘটনা ঘটেছিল স্বাধীনতা দিবসের দিন? তা জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন প্রধান বিচারপতি। স্কুলকে এই মামলায় যুক্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের কোন সংশোধনাগারে রাখা হয়েছে, তাঁরা কারা এবং এই ৩১ জনের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা আছে কি না? তা রাজ্যকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে শুনানিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বলেন, "বাঁশবেড়িয়া হাইস্কুলে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক অশান্তি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় প্রায় ৩০ জনেরও বেশি দুষ্কৃতীদের একটি দল জাতীয় পতাকার প্রতি অবজ্ঞা ও অসম্মান করে, টেনে নামানো হয় পতাকা। তারা দেশবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে এবং পাথর ছোড়ে ।"
আরও পড়ুন:
এরপর রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেন, -'এটি স্কুলের বাইরের ঘটনা।
দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা এখন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে' ।আরও পড়ুন:
প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এই শুনে বলেন, "যেহেতু জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ, তাই রাজ্যকে আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। স্থানীয় পুলিশের স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে আরও আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। আর সমস্ত অভিযোগে রাজ্যের রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা, এটা গ্রহণযোগ্য নয় । রাজ্য যদি চোখ বন্ধ করে থাকে, তাহলে সব কিছুই তাদের কাছে অন্ধকার লাগবে।"
আরও পড়ুন:
বিরোধী দলনেতার আইনজীবী আরও জানান, "যদি কিছু না ঘটে থাকে, তাহলে রাজ্য এতজনকে গ্রেফতার করল কেন ? এর যথাযথ তদন্ত করা হোক ।" তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, "স্কুলের বাচ্চাদের সামনে জাতীয় পতাকার অবমাননা এই রাজ্যের অবমাননা। পাথর ছোড়া হয়েছে ।
তারপর পুলিশ বলছে কিছু হয়নি ?"আরও পড়ুন:
শুনানিতে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, -'অভিযুক্তরা তিন বেলা খাবার পাবেন আর তার পর পাঁচ হাজার টাকার বন্ডে মুক্তি পেয়ে ঘুরে বেড়াবেন, এটা হতে পারে না'।
আরও পড়ুন:
প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্য করার পাশাপাশি, স্বরাষ্ট্র সচিবের থেকে এই বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন। আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'জাতীয় পতাকার অবমাননা গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশ তদন্ত করে জানুক কেন এই ঘটনা ঘটেছে। এদের বিরুদ্ধে আগে কোনও মামলা আছে কি না, কোনও ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে কি না।' এর পাশাপাশি বিচারপতি এদিন প্রশ্ন করেন, 'এরা কোন জেলে আছে?'
আরও পড়ুন:
রাজ্যের তরফে জানানো হয়, চুঁচুড়া। বিচারপতি পাল্টা উত্তর দিয়ে বলেন, ''চুঁচুড়া খুব আরামদায়ক জায়গা, এদের মালদা বা মুর্শিদাবাদে পাঠিয়ে দেব। জাতীয় পতাকার অবমাননা করে কেউ নিজেকে ভারতীয় বলে দাবি করতে পারেন না। সত্যি খুঁজে বের করুন, রাজনীতির রং দেবেন না।''
আরও পড়ুন:
আগামী ৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে।