পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পুজোয় ডেঙ্গু সতর্কতার কথা মাথায় রেখে শহরের সব ওয়ার্ডে কিয়ক্স বসল কলকাতা পুরসভা। এই প্রথম পুজোয় ডেঙ্গু সচেতনতায় কিয়স্ক তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি অটো পুর-এলাকায় ঘুরে ঘুরে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। ১৪৪টি ওয়ার্ডেই মানুষের কাছে পরিসেবা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ পুর কর্তৃপক্ষের।
আরও পড়ুন:
কলকাতা পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, সবক’টা ওয়ার্ডেই কিয়স্ক তৈরি করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের কী করা উচিত, সে-সম্পর্কে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে সেগুলি থেকে।
যেসব জায়গায় পুজোর জন্য মানুষ বেশি ভিড় করেন, সেসব জায়গার পাশাপাশি, বিভিন্ন বাজারের সামনেও কিয়স্ক বসানো হয়েছে। ১১৫ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি পর পর তিনজনের ডেঙ্গিতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাই ওই ওয়ার্ডে টালিগঞ্জ করুণাময়ী ক্রসিংয়ে কিয়স্ক বসানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
মূলত, কলকাতার ২৪টি ওয়ার্ড হয়ে উঠেছে ডেঙ্গুর হটস্পট। সেখানকার কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত দেখা দিয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, ওই এলাকাগুলিতে আলাদা করে অস্থায়ী ফিভার ক্যাম্প করা হয়েছে।
সেখানে অতিরিক্ত চিকিৎসক দিয়ে সাহায্য করছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এবং স্বাস্থ্য দফতর। বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছেন, পুজোর পরও ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত থাকবে। ঠান্ডা না পড়া পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মেনে চলতে হবে পুরসভার গাইড লাইন। পুরকর্তা এবং কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম আগেই জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে একমাত্র পথ হল সচেতনতা। মানুষ সচেতন না হলে, ডেঙ্গু কমবে না। তাই পুজোর মধ্যে ডেঙ্গু সচেতনতা সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ডে সচেতনতা কিয়স্ক তৈরি করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম রাউন্ডে ১ অক্টোবরের মধ্যেই রাজ্যের সব পুরসভার অধীনস্থ এলাকার ফাঁকা জমি ড্রেন জলজমা এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ১১ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে অনুরূপভাবেই এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। প্রতিটি পুরসভার অধীনস্থ এক্সিকিউটিভ পদমর্যাদার অফিসাররা নজরদারি করবেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে। পুজোর আগে এবং পুজোর পরে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। ভিক্টর কন্ট্রোল মনিটরিং অফিসারদের তাঁদের নির্দিষ্ট করে দেওয়া ওয়ার্ডগুলি পরিদর্শন করতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হচ্ছে নাকি তা সরজমিনে দেখতে হবে এবং রিপোর্ট দিতে হবে এক্সিকিউটিভ পদমর্যাদার অফিসারদের। যে ওয়ার্ডগুলিতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেশি, সেই ওয়ার্ডগুলিতে মাইক্রো প্ল্যান করে এগোতে হবে।