পুবের কলম, ওয়েব ডেস্ক: এর আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন রফতানি শুল্ক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৫০ শতাংশ করে ভারতকে ভাতে মারার চেষ্টা করেছিলেন, তখনও চক্ষুলজ্জার খাতিরে তিনি ওষুধকে এই বাড়তি শুল্কের আওতার বাইরে রেখেছিলেন।

এবার সেই ওষুধের উপরও ১০০ শতাংশ পর্যন্ত রফতানি শুল্ক চাপিয়ে দিলেন খামখেয়ালি ট্রাম্প। ব্র্যাণ্ডেড এবং পেটেন্ট নেওয়া সব ওষুধ ভারত থেকে আমেরিকায় গেলে ১০০ শতাংশ রফতানি শুল্ক দিতে হবে আমেরিকাকে।

এমন সময় ট্রাম্প এই ঘোষণা করলেন যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনীর আমেরিকায় রয়েছেন। তাঁরা সদ্য ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

অক্টোবরের প্রথম দিন থেকেই এই বাড়তি শুল্ক চালু হবে। এতে ভারতের ওষুধ শিল্প চরম আঘাতের মুখে পড়ল। কারণ ভারতে তৈরি ওষুধের বেশিরভাগই আমেরিকায় রফতানি হয়। ২০২৪ সালে ভারতের ওষুধ সংস্থাগুলি সারা বিশ্বে মোট ২৭৯০ কোটি ডলার ওষুধ রফতানি করেছে। এর মধ্যে আমেরিকায় রফতানি করেছে ৮৭০ কোটি ডলার মূল্যের ওষুধ।

মোট রফতানির ৩১ শতাংশ আমেরিকায় পাঠানো হয়েছে। ডা: রেড্ডিজ, সান ফার্মাসিউটিক্যালস, জাইডাস ফার্মাসিউটিক্যালস, অরবিন্দ ফার্মা, গ্ল্যান্ড ফার্মা আমেরিকায় বেশি ওষুধ পাঠায়। শুধু ওষুধই নয়, কিচেন ক্যাবিনেট এবং বাথরুমের সাজসজ্জার জিনিসে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। ঘর সাজানোর আসবাবপত্রে ৩০ শতাংশ শুল্ক, ভারী ট্রাক এবং যন্ত্রাংশে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, হয় আমেরিকায় কারখানা বানাও, যেটা ভারত থেকে পাঠাচ্ছ সেটা এখানে তৈরি করো, নয় বাড়তি শুল্ক দাও।

আমেরিকার লোক কাজ পাবে না, তুমি বাইরে থেকে মাল পাঠাবে, ভারতের লোক কাজ পাবে, তা হতে দেব না।

আমেরিকার বাজারে ভারতের তৈরি আসবাবপত্র, ভারী ট্রাক এবং তার যন্ত্রাংশে ছেয়ে গেছে। আমাদের এখানে তৈরি মাল বিক্রি হচ্ছে না। তাই এই ব্যবস্থা। প্রথমে সমস্ত রফতানি পণ্যে বাড়তি শুল্ক, তারপর ভিসার ফি ১১ গুণ বৃদ্ধি, এবার ওষুধ, আসবাবপত্র, ভারী ট্রাক এবং যন্ত্রাংশে বাড়তি শুল্ক চাপিয়ে ট্রাম্প ভারতের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। তাঁর লক্ষ্য, ভারতের কৃষিজ বাজার এবং দুধ ও মাছের বাজার আমেরিকার জন্য মুক্ত করে দিক সরকার। এই বাজার পেতে ছুতো তুলে ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করতে পারে ভারতে। উনি যে কী করবেন, কেউ জানে না।