মুহাম্মদ মুস্তাক আলি– জঙ্গিপুর বর্ষা বিদায় নিয়েছে। বিরাজ করছে শরৎ। স্ফীত গঙ্গার জল কমছে। আর নদীর জলস্তর নামতেই সামশেরগঞ্জে শুরু হয়েছে নতুন করে গঙ্গা ভাঙন। বুধবার সকাল থেকেই সামশেরগঞ্জের নিমতিতা দুর্গাপুর গ্রামের বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছেন গঙ্গার বিষাক্ত ছোবলে।
স্থানীয়দের বক্তব্য এদিন সকালে নদী ধসের তীব্রতা এতটাই ছিল– যে নদীতে পাড় ভেঙে পড়ার সময় মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প শুরু হয়েছে।আরও পড়ুন:
নিম্নচাপের জেরে মুর্শিদাবাদের আবহাওয়া এমনিতে প্রতিকূল। গত তিন চারদিন ধরে দফায় দফায় চলছে বৃষ্টি। প্রায় সারাদিন আকাশ থাকছে মেঘে ঢাকা। আবহাওয়ার যখন এমন অবস্থা তখন অনেকটা সাঁড়াশি আক্রমণ হয়ে দেখা দিয়েছে দুর্গাপুরের গঙ্গাভাঙন।
ভাঙনের জেরে জলে তলিয়ে যাওয়া জনসাধারণ লোটা-কম্বল– ঘটি-বাটি সমেত ক্রমশ মাথা গোঁজার দিকে ছুটে চলেছে। যাত্রাপথ আরও কণ্টকাপূর্ণ– সংর্কীণময় হয়ে উঠেছে একবাক্যে বলা যায়।আরও পড়ুন:
নতুন করে গঙ্গা ভাঙন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সমস্যার কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন সামশেরগঞ্জের বিডিও কৃষ্ণচন্দ মুন্ডা। তিনি দাবি জানিয়েছেন– ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের অস্থায়ী আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। রিলিফের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিডিওর আশ্বাস– ভবিষ্যতে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা হবে।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত– আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এই এলাকাতে বিধানসভা ভোট। আর এমন সময় গঙ্গার বিষাক্ত ছোবল মানুষকে যেন নতুন করে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
আরও পড়ুন:
বুধবার দিন গঙ্গার তাণ্ডবের শিকার দুর্গাপুরের হামফুল বেওয়া– রাকিয়া বিবি– আশরাফুল সেখ– তনুজা বিবি– জাহিরুল সেখ প্রমুখ অসহায় মানুষদের দাবি এদিন গঙ্গা ভাঙনে বেশ কিছু জমিই নদীতে তলিয়ে যায়নি– বরং গঙ্গার আগ্রাসন হাজার হাজার মানুষকে খোলা আকাশের নিচে বসিয়েছে। এলাকার এইসব মানুষরা ভাঙন প্রতিরোধে সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সোচ্চার দাবি তুলেছেন।