পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল। এবার অভিযোগ উঠল, সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় তথ্য বদলে ‘মিথ্যাচার’ করেছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় প্রথম হলফনামা জমা দিয়েই প্রবল বিতর্কের মুখে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় দাবি করা হয়েছে, ৬ জন বা তার বেশি সন্তান রয়েছে—এমন ভোটারের সংখ্যা ১৩ লক্ষ। কিন্তু খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় কমিশন নিজেই জানিয়েছিল, এই সংখ্যা ছিল ২৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০।

অর্থাৎ, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ লক্ষেরও বেশি ভোটার উধাও! এই বিপুল ফারাক নিয়েই উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।

হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, ২ লক্ষ ৬ হাজার ভোটারের ছয়ের বেশি সন্তান, ৮,৬৮২ জনের দশের বেশি সন্তান, ৫০ জনের কুড়ির বেশি সন্তান, এমনকি ১৪ জন ব্যক্তির ৩০ জনেরও বেশি সন্তান রয়েছে! এই তথ্যে মোট ১৩ লক্ষ ‘সন্দেহজনক’ ভোটারের উল্লেখ থাকলেও, আগের নথি অনুযায়ী সংখ্যাটা ১০ লক্ষেরও বেশি বেশি ছিল। এই তথ্যবিভ্রাট নিয়ে কমিশনের তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই বিভ্রান্তির নেপথ্যে রয়েছে কমিশনের এআই-ভিত্তিক অ্যাপের বড়সড় ত্রুটি। সূত্রের খবর, ছ’জনের বেশি সন্তান রয়েছে—এমন ভোটারদের চিহ্নিত করার কথা থাকলেও বাস্তবে চার সন্তানের বাবাদেরও ‘সন্দেহজনক’ তালিকায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই বহু ভোটার অযথা নোটিস পেয়েছেন। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো একাধিক জেলায় চার সন্তানের পিতারা ছ’ বা তার বেশি সন্তানের অভিযোগে শুনানির নোটিস পেয়েছেন, যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর এই ভুল ঢাকতেই সুপ্রিম কোর্টে তথ্য বদলে হলফনামা জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।