পারিজাত মোল্লা: সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের এজলাসে উঠে শিক্ষকতা বিষয়ক মামলা। নিয়োগ দুর্নীতিতে  নয়! দীর্ঘ ১১ বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় আদালতের নির্দেশে চাকরি গেল এক শিক্ষিকার! এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ একে অপরের উপর দায় চাপানোয় ক্ষুব্ধ বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এদিন এজলাসে জানান , -' দু'পক্ষই দায়িত্বজ্ঞানহীন'। ১১ বছর ধরে শিক্ষিকা স্কুলে গরহাজির। শিক্ষিকাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পূর্ব মেদিনীপুরের ঘোষপুর শ্রীনেহেরু হাইস্কুলের শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল আদালত। সোমবার মামলাটি ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসে ওঠে।

এদিন কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, -' একজন শিক্ষিকা ১১ বছর ধরে স্কুলে যান না, তার মানে তো তিনি শিক্ষকতা করতেই চান না।তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত'। কেন তাঁকে এতদিন ইস্তফা দিতে বলা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। জানা গিয়েছে, উক্ত শিক্ষিকা ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে হঠাৎই  ঘোষপুর শ্রীনেহেরু হাইস্কুলে আসা বন্ধ করে দেন। এই নিয়ে আদালতে একটি মামলা হয়। আদালত শিক্ষিকাকে স্কুলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরও তিনি যাননি। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়।
২০২২ সালে আদালতের নির্দেশ ছিল, অবিলম্বে ওই শিক্ষিকাকে চাকরি ছাড়তে হবে। কিন্তু তাও হয়নি। সেই মামলারই শুনানি ছিল সোমবার।সওয়াল জবাবের সময়ে হাইকোর্টের ভর্ত্‍সনার মুখে পড়েন বোর্ড। বিচারপতি বলেন, “এক জন শিক্ষিকা, যিনি ১১ বছর ধরে স্কুলেই আসছেন না, তাঁকে পদত্যাগ করতে বলবে, এই টুকু বলার ক্ষমতা বোর্ডের নেই!”  এতে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থারের  পর্যবেক্ষণ, -' এখানে বোর্ড ও স্কুল কর্তৃপক্ষ দু’পক্ষই দায়িত্বজ্ঞানহীন। এতদিন শিক্ষিকা নেই, সেখানে তাঁর জায়গায় অন্য শিক্ষক দেওয়া যেত।
কিন্তু বোর্ড আর স্কুলের মধ্যে আইন নিয়ে খেলার জন্য আসল কাজটাই করা হয়নি'। দুপক্ষই দায়িত্ব জ্ঞানহীন আচরণ করেছে বলে বিচারপতি মন্তব্য করেন।বোর্ডকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “ওই শিক্ষিকা কি আপনার কাছের লোক?” বিচারপতির সামনেই কার্যত প্রধান শিক্ষক ও বোর্ড সভাপতি একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করতে থাকেন।বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করেন, এত সব জটিলতার মধ্যে এতদিন পড়ুয়ারা নতুন শিক্ষকও পায়নি। তাদের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু বোর্ড সভাপতি এক্ষেত্রে আমলাদের মতো আচরণ করেছেন বলে তিরস্কার করেন বিচারপতি। বিচারপতি বলেন, এটা স্পষ্ট, স্কুল চায় না ওই শিক্ষিকা চাকরি করুন। এদিন এই মামলার সওয়াল জবারের শেষে  রায়দানে ওই শিক্ষিকাকে চাকরি ছাড়তে নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থার।