গাজা, ৩ নভেম্বর: উত্তর গাজায় এ সপ্তাহে ভয়াবহ হামলা চলছে ইসরাইলের। এ সব হামলায় শুধু কয়েক ঘণ্টায় জাবালিয়া এলাকায় ৫০ জনের বেশি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে এমন তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল ওই বিবৃতিতে ভয়াবহ এ হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন।   কোনও বাছবিচার করেনি হানাদার বাহিনী। ফিলিস্তিনি শিশুরা বড় হয়ে যোদ্ধা হবে, আর ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে এই আক্রোশে তাদেরকে গণহত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
Advertisement
ইতিমধ্যে গাজায় ৪৩,৪০০ জন নিহত হয়েছে গত এক বছরের বেশি সময়ে। আহত এক লক্ষের বেশি।   জাবালিয়া এলাকায় ইউনিসেফের কর্মীরা পোলিও টিকাদান কর্মসূচি চালানোর সময় গতকাল শনিবার হামলা চালানোর তথ্য পেয়েছেন বলেও জানান রাসেল। তিনি বলেন, সন্দেহজনক ইসরাইলি কোয়াডকপ্টার জাবালিয়াতে হামলা চালিয়েছে।ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল আরও বলেন, পোলিও টিকাদান কর্মসূচি চলাকালে গতকাল সকালের ওই হামলায় ইউনিসেফের কর্মীদের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌভাগ্যবশত কোনও কর্মী আহত হননি।
Advertisement
এ ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে আহত করেছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডের কাছে হোয়াইটওয়াশ, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় পিছল ভারত 

  রাসেল আরও বলেন, জাবালিয়া, গাজায় বেসামরিক লোকদের ওপর যে নির্বিচারে হামলা চলছে, তার উদাহরণ হল, পোলিও টিকাদান কেন্দ্র, ইউনিসেফের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা। আল-জাজিরার খবর বলছে, পোলিও টিকাকেন্দ্রে চালানো ইসরাইলের হামলায় চার শিশুসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ তথ্য জানিয়েছে। ওই হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে।
Advertisement
এ দিকে, ফিলিস্তিনের গাজার উত্তরাঞ্চলে দু’টি বহুতল আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ৮৪ জন নিহত হয়েছেন।   নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ জনের বেশি শিশু। গাজার গণমাধ্যম দফতর রাতে এ কথা জানিয়েছে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম দফতর বলেছে, হামলা চালানো ওই দুই বহুতল আবাসিক ভবনে ১৭০ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন। আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে ৮৪ জনকে হত্যার ঘটনাকে ‘নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ’ বলে মন্তব্য করেছে সরকারি গণমাধ্যম দফতর। তারা জানিয়েছে, ওই এলাকা অবরুদ্ধ করে ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত বোমা হামলার কারণে সেখানে উদ্ধারকর্মীরা যেতে পারছেন না। এলাকাটিতে কোনও ধরনের স্বাস্থ্য পরিষেবা কিংবা ত্রাণসহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উত্তর গাজার ঠিক কোন জায়গায় এই হামলা চালানো হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলেনি গণমাধ্যম দফতর। তবে জানিয়েছে, ভবন দু’টি শালায়েল ও আল-গান্দোর পরিবারের।