পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ ভোটের ফল ঘোষণার দিন গণনাকেন্দ্রে কারচুপির আশঙ্কা নিয়ে ইতিমধ্যেই বারবার সতর্ক করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় এজেন্টদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যেন কেউ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না যান। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে তিনি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত করেছেন। নন্দীগ্রামের ঘটনার প্রসঙ্গ সরাসরি উল্লেখ না করলেও লোডশেডিং'-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রেও সরাসরি মুখোমুখি হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই কেন্দ্রে গণনার সময় কারচুপির আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূল প্রার্থীও। এই পরিস্থিতিতে গণনার দিনে যদি বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিক রণধীর কুমারকে।আরও পড়ুন:
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তাঁর কথায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সংযোগ নেওয়া হয়েছে এবং এমন পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয়, সে দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি গণনাকেন্দ্রে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও রাখা থাকবে। যদি কোনও কারণে বিদ্যুৎ চলে যায়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেনারেটর চালু হয়ে যাবে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা নেই।আরও পড়ুন:
এদিন নির্বাচনী প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। জানান, এখনও পর্যন্ত অভিযানে প্রায় ৮ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ কলকাতার চারটি বিধানসভা কেন্দ্র, ভবানীপুর, বালিগঞ্জ, রাসবিহারী এবং কলকাতা বন্দর মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৩ টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে চারশোরও বেশি বুথ স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রণধীর কুমার আরও জানান, রাসবিহারী কেন্দ্রে দুটি বহুতল ভবনে ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। দক্ষিণ কলকাতা জুড়ে নিরাপত্তার জন্য মোট ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। গণনার দিন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হবে না বলে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।