২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, বুধবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতে  দ্রুত বার্ধক্য: ১৪ বছরে ২.৫ কোটি যুবক কমবে,  বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ৫ শতাংশ   

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  ভারতে দ্রুত বার্ধক্য বাড়ছে। ১৪ বছর পর, অর্থাৎ ২০৩৬ সালে প্রত্যেক ১০০ জনের মধ্যে ২৩ জন যুবক অবশিষ্ট থাকবে এবং ১৫ জন বৃদ্ধ হবে। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের ২০২২ সালের ইয়ুথ ইন ইন্ডিয়া রিপোর্টে এটি অনুমান করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রত্যেক ১০০ জনের মধ্যে ২৭ জন যুবক এবং ১০ জন বৃদ্ধ।

২০১১ সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল ১২১.১ কোটি। ২০২১ সালে তা ১৩৬.৩ কোটিতে পৌঁছেছে। এরমধ্যে, জনসংখ্যার ২৭.৩ শতাংশ যুবক, অর্থাৎ ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী। এই হিসাবে  ভারত বিশ্বের অন্যতম তরুণ দেশ।

আরও পড়ুন: নাবালিকার সঙ্গে প্রেম, মুসলিম যুবককে পিটিয়ে খুন প্রেমিকার বাবার

ইয়ুথ ইন ইন্ডিয়া ২০২২-এর রিপোর্ট অনুসারে, ২০৩৬ সাল নাগাদ যুবকের সংখ্যা আড়াই কোটি কমে যাবে। বর্তমানে দেশে যুব জনসংখ্যা ৩৭ কোটি ১৪ লাখ। এটি ২০৩৬  সালে ৩৪.৫৫ কোটিতে নেমে আসবে। বর্তমানে দেশে ১০.১ শতাংশ বয়স্ক লোক রয়েছে, যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩৬ সালের মধ্যে ১৪.৯ শতাংশ হবে।

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রের নান্দেদে আম্বেদকরের জন্মদিন পালন করায় খুন দলিত যুবকের

বিহার এবং ইউপিতে, ২০২১ সাল পর্যন্ত যুব জনসংখ্যা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু তারপরে তা কমতে শুরু করেছে যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বিহার, ইউপি, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান এই ৫টি রাজ্যে অর্ধেকের বেশি যুবক।

আরও পড়ুন: দামি পোশাক, সান গ্লাস পরার অপরাধে দলিত যুবককে বেধড়ক মার, ধৃত ৭  

২০২১ সালের জনসংখ্যা অনুসারে, সবচেয়ে কম যুব জনসংখ্যার রাজ্যগুলো হল অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা এবং পশ্চিমবঙ্গ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রবীণদের সংখ্যা আরও বাড়বে। এটি প্রবীণদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্য সুবিধা এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পের চাহিদা তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার চাপও বাড়বে। অর্থাৎ একজনের প্রতি নির্ভরশীলতা বেশি হবে। সেজন্য সরকারকে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ত্বরান্বিত করতে হবে।

সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকে ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। প্রবীণদের পরিচর্যার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। দেশের জনসংখ্যার মাত্র ৭০ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারী।

প্রবীণরা যদি আর্থিকভাবে কারো ওপর নির্ভরশীল না হন, তাহলে বোঝা যায় তাদের অবস্থা ভালো। কিন্তু দেশের বয়স্কদের মধ্যে মাত্র ২৬.৩ শতাংশ আর্থিকভাবে নির্ভরশীল নয়, যেখানে ২০.৩ শতাংশ আংশিকভাবে অন্যদের উপর নির্ভরশীল। দেশের বয়স্ক জনসংখ্যার ৫৩.৪ শতাংশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণভাবে শিশুদের উপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় এই বোঝা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

সর্বধিক পাঠিত

তরুণীকে বিয়ে করে ৭০ বছরের হাকিমের বক্তব্য-“বয়স নয়, মনটাই আসল”

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভারতে  দ্রুত বার্ধক্য: ১৪ বছরে ২.৫ কোটি যুবক কমবে,  বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে ৫ শতাংশ   

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২২, শুক্রবার

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  ভারতে দ্রুত বার্ধক্য বাড়ছে। ১৪ বছর পর, অর্থাৎ ২০৩৬ সালে প্রত্যেক ১০০ জনের মধ্যে ২৩ জন যুবক অবশিষ্ট থাকবে এবং ১৫ জন বৃদ্ধ হবে। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের ২০২২ সালের ইয়ুথ ইন ইন্ডিয়া রিপোর্টে এটি অনুমান করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রত্যেক ১০০ জনের মধ্যে ২৭ জন যুবক এবং ১০ জন বৃদ্ধ।

২০১১ সালে ভারতের জনসংখ্যা ছিল ১২১.১ কোটি। ২০২১ সালে তা ১৩৬.৩ কোটিতে পৌঁছেছে। এরমধ্যে, জনসংখ্যার ২৭.৩ শতাংশ যুবক, অর্থাৎ ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী। এই হিসাবে  ভারত বিশ্বের অন্যতম তরুণ দেশ।

আরও পড়ুন: নাবালিকার সঙ্গে প্রেম, মুসলিম যুবককে পিটিয়ে খুন প্রেমিকার বাবার

ইয়ুথ ইন ইন্ডিয়া ২০২২-এর রিপোর্ট অনুসারে, ২০৩৬ সাল নাগাদ যুবকের সংখ্যা আড়াই কোটি কমে যাবে। বর্তমানে দেশে যুব জনসংখ্যা ৩৭ কোটি ১৪ লাখ। এটি ২০৩৬  সালে ৩৪.৫৫ কোটিতে নেমে আসবে। বর্তমানে দেশে ১০.১ শতাংশ বয়স্ক লোক রয়েছে, যা বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩৬ সালের মধ্যে ১৪.৯ শতাংশ হবে।

আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রের নান্দেদে আম্বেদকরের জন্মদিন পালন করায় খুন দলিত যুবকের

বিহার এবং ইউপিতে, ২০২১ সাল পর্যন্ত যুব জনসংখ্যা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু তারপরে তা কমতে শুরু করেছে যা এখনও পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বিহার, ইউপি, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান এই ৫টি রাজ্যে অর্ধেকের বেশি যুবক।

আরও পড়ুন: দামি পোশাক, সান গ্লাস পরার অপরাধে দলিত যুবককে বেধড়ক মার, ধৃত ৭  

২০২১ সালের জনসংখ্যা অনুসারে, সবচেয়ে কম যুব জনসংখ্যার রাজ্যগুলো হল অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা এবং পশ্চিমবঙ্গ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রবীণদের সংখ্যা আরও বাড়বে। এটি প্রবীণদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্য সুবিধা এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পের চাহিদা তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তার চাপও বাড়বে। অর্থাৎ একজনের প্রতি নির্ভরশীলতা বেশি হবে। সেজন্য সরকারকে আগামী ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ত্বরান্বিত করতে হবে।

সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকে ভারত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। প্রবীণদের পরিচর্যার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। দেশের জনসংখ্যার মাত্র ৭০ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারী।

প্রবীণরা যদি আর্থিকভাবে কারো ওপর নির্ভরশীল না হন, তাহলে বোঝা যায় তাদের অবস্থা ভালো। কিন্তু দেশের বয়স্কদের মধ্যে মাত্র ২৬.৩ শতাংশ আর্থিকভাবে নির্ভরশীল নয়, যেখানে ২০.৩ শতাংশ আংশিকভাবে অন্যদের উপর নির্ভরশীল। দেশের বয়স্ক জনসংখ্যার ৫৩.৪ শতাংশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য সম্পূর্ণভাবে শিশুদের উপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় এই বোঝা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।