০১ মার্চ ২০২৬, রবিবার, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এসএসসিকে অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মোল্লা জসিমউদ্দিন: এসএসসির দাগি অযোগ্যদের তালিকা ঘিরে ফের প্রশ্নচিহ্ন উঠল। স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত তালিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, -‘তালিকা যথেষ্ট নয়, আবার তৈরি করে প্রকাশ করুন পুরো বিবরণ-সহ।’ দাগি অযোগ্য তালিকায় ১৮০৬ জন।

নতুন করে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে এসএসসি। এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার জানান ,‘কোনও গোপনীয়তা নয়, বিষয়ভিত্তিক ও সংরক্ষণভিত্তিক ভাবে বিশদে জানাতে হবে, কারা, কোন যুক্তিতে দাগি হয়েছেন। নয়তো আবার জটিলতা তৈরি হবে।’ গত অগস্টের শেষে এসএসসি যে ১৮০৬ জন দাগি অযোগ্য পরীক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেছিল, তা নিয়েই মূলত আপত্তি। কমিশনের দাবি ছিল, ওই তালিকায় দাগিদের সকলের নাম রয়েছে।

আরও পড়ুন: এসআইআর মামলায় ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মুখ্যমন্ত্রী

কিন্তু তা মেনে নেয়নি সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশ, ‘তালিকা যেন পুরোপুরি স্বচ্ছ হয়, কারণ একটিও দাগি যেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পারেন’, আগেই এই নির্দেশ ছিল সুপ্রিম কোর্টের। এসএসসির আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে জানান, ‘প্রক্রিয়া মেনেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে’। তবে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘এভাবে চললে আবার কেউ মামলা করবে। আদালতের সময় নষ্ট হবে। এটা চলতে দেওয়া যায় না।’ কমিশন জানিয়েছে, তারা নতুনভাবে তালিকা প্রকাশ করবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২১ নভেম্বর। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সেপ্টেম্বর মাসে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষা নেয় এসএসসি।

আরও পড়ুন: ‘বিচার বিভাগ আজ রক্তাক্ত’: পাঠ্যবই বিতর্কে কেন্দ্রকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

কমিশনের দাবি, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে। আদালতও তাতে অনুমতি দিয়েছে। পরীক্ষা শেষে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছিলেন, পুজোর পরে ফল প্রকাশ করবে এসএসসি। নভেম্বরেই প্রকাশ করা হবে ইন্টারভিউ প্যানেল। তবে এখন সবার নজর দাগি অযোগ্যদের নতুন তালিকার দিকে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনও গোপনীয়তা নয়, স্বচ্ছতা চাই। তা না হলে ফের জটিলতা অবশ্যম্ভাবী। লিখিত পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশে কোনও বাধা নেই বলেও বুধবার জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন: “বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করা সহ্য করব না”: পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’ নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

গত ৩ এপ্রিল এসএসসি-র ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। চাকরি হারান প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী। সেইসময় সুপ্রিম কোর্ট দাগি অযোগ্যদের নাম প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। তাতে নাম রয়েছে ১৮০৬ জনের। সেই তালিকা নিয়েই এদিন অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কপিল সিবল এদিন আদালতে জানান, ‘দাগি অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে’।

তখন দুই বিচারপতি বলেন, ‘দাগি অযোগ্যদের তালিকা অস্পষ্ট’। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই তালিকায় জটিলতা বাড়ছে। বিস্তারিতভাবে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়ে দুই বিচারপতি জানান, ‘দাগি অযোগ্যদের তালিকায় বিষয়ভিত্তিক এবং সংরক্ষণভিত্তিক তথ্য থাকতে হবে। বর্তমান তালিকায় যেটা নেই’। এসএসসি জানিয়েছে, ‘তারা আবার তালিকা প্রকাশ করবে।’

সর্বধিক পাঠিত

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কৃষকদের জন্য ‘ডেথ ওয়ারেন্ট’, বার্নালার র‍্যালিতে মোদীকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের

Copyright © Puber Kalom All rights reserved.| Developed by eTech Builder

এসএসসিকে অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

আপডেট : ৮ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার

মোল্লা জসিমউদ্দিন: এসএসসির দাগি অযোগ্যদের তালিকা ঘিরে ফের প্রশ্নচিহ্ন উঠল। স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রকাশিত তালিকা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, -‘তালিকা যথেষ্ট নয়, আবার তৈরি করে প্রকাশ করুন পুরো বিবরণ-সহ।’ দাগি অযোগ্য তালিকায় ১৮০৬ জন।

নতুন করে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে এসএসসি। এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার জানান ,‘কোনও গোপনীয়তা নয়, বিষয়ভিত্তিক ও সংরক্ষণভিত্তিক ভাবে বিশদে জানাতে হবে, কারা, কোন যুক্তিতে দাগি হয়েছেন। নয়তো আবার জটিলতা তৈরি হবে।’ গত অগস্টের শেষে এসএসসি যে ১৮০৬ জন দাগি অযোগ্য পরীক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেছিল, তা নিয়েই মূলত আপত্তি। কমিশনের দাবি ছিল, ওই তালিকায় দাগিদের সকলের নাম রয়েছে।

আরও পড়ুন: এসআইআর মামলায় ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মুখ্যমন্ত্রী

কিন্তু তা মেনে নেয়নি সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশ, ‘তালিকা যেন পুরোপুরি স্বচ্ছ হয়, কারণ একটিও দাগি যেন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না পারেন’, আগেই এই নির্দেশ ছিল সুপ্রিম কোর্টের। এসএসসির আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে জানান, ‘প্রক্রিয়া মেনেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে’। তবে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘এভাবে চললে আবার কেউ মামলা করবে। আদালতের সময় নষ্ট হবে। এটা চলতে দেওয়া যায় না।’ কমিশন জানিয়েছে, তারা নতুনভাবে তালিকা প্রকাশ করবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২১ নভেম্বর। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সেপ্টেম্বর মাসে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষা নেয় এসএসসি।

আরও পড়ুন: ‘বিচার বিভাগ আজ রক্তাক্ত’: পাঠ্যবই বিতর্কে কেন্দ্রকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

কমিশনের দাবি, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে। আদালতও তাতে অনুমতি দিয়েছে। পরীক্ষা শেষে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছিলেন, পুজোর পরে ফল প্রকাশ করবে এসএসসি। নভেম্বরেই প্রকাশ করা হবে ইন্টারভিউ প্যানেল। তবে এখন সবার নজর দাগি অযোগ্যদের নতুন তালিকার দিকে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনও গোপনীয়তা নয়, স্বচ্ছতা চাই। তা না হলে ফের জটিলতা অবশ্যম্ভাবী। লিখিত পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশে কোনও বাধা নেই বলেও বুধবার জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুন: “বিচারব্যবস্থাকে কালিমালিপ্ত করা সহ্য করব না”: পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’ নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

গত ৩ এপ্রিল এসএসসি-র ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। চাকরি হারান প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী। সেইসময় সুপ্রিম কোর্ট দাগি অযোগ্যদের নাম প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। তাতে নাম রয়েছে ১৮০৬ জনের। সেই তালিকা নিয়েই এদিন অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ। রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কপিল সিবল এদিন আদালতে জানান, ‘দাগি অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে’।

তখন দুই বিচারপতি বলেন, ‘দাগি অযোগ্যদের তালিকা অস্পষ্ট’। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই তালিকায় জটিলতা বাড়ছে। বিস্তারিতভাবে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়ে দুই বিচারপতি জানান, ‘দাগি অযোগ্যদের তালিকায় বিষয়ভিত্তিক এবং সংরক্ষণভিত্তিক তথ্য থাকতে হবে। বর্তমান তালিকায় যেটা নেই’। এসএসসি জানিয়েছে, ‘তারা আবার তালিকা প্রকাশ করবে।’