পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: হিজাব নারী জীবনের একটি মহান অনুষঙ্গ। হিজাব নারীকে সম্মানিত ও মর্যাদাশীল করেছে। এর মাধ্যমে ইসলাম নারীর মর্যাদাকে সমুন্নত করে সমাজের স্বাভাবিক কর্মপ্রবাহকে করেছে মার্জিত ও পরিশীলিত।এই বছর দিবসটির ১২তম বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য #VeiledInStrength অর্থাৎ শক্তিতে আবৃত। দিবসটি উদযাপনকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড হিজাব ডে জানিয়েছে, ‘হিজাব দিবসের লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে, পারষ্পরিক বোঝাপড়া, সহনশীলতা ও সংহতি বৃদ্ধির মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা। পোশাক ও অভিব্যক্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত পছন্দের বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করা ও সচেতনতা প্রচার করতে দিবসটি একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশে এ দিবসটি পালিত হচ্ছে।

২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক হিজাব দিবস পালন শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নাজমা খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সর্বপ্রথম হিজাব দিবস পালনের পক্ষে প্রচারণা চালান। এর ধারাবাহিকতায় পরে মুসলিম দেশগুলোতে এই দিবসটি পালনের প্রচলন শুরু হয়। শুরু হওয়ার পরপরই হিজাব দিবস বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রথম বছরেই ৬৭টি দেশের মুসলিম নারীরা ছাড়াও খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও হিজাব দিবস পালন করেন। গত বছর ১৫০টি দেশে এ দিবস পালিত হয়েছিল। হিজাব দিবসের আহ্বানকারী নাজমা খান ১১ বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুসলিম নারীরা ছাড়াও খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী নারীরা হিজাব পরিধান করে দিবসটি পালন করেন।
মুসলিম নারীদের হিজাব পরিধানের সংস্কৃতি দেখে তারাও হিজাবের দৃষ্টিনন্দন সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। হিজাব পরিহিতা অমুসলিম নারীরা হিজাবের ব্যাপারে তাদের নিজ নিজ অনুভূতিও ব্যক্ত করেছিলেন।

আরবি হিজাব শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ আবরণ বা অন্তরায়। আর শরিয়তের পরিভাষায় অশ্লীলতা ও ব্যাভিচার রোধকল্পে ইসলামী শরিয়ত নারীকে পরপুরুষ ও গায়রে মাহরাম ব্যক্তি থেকে নিজ রূপ-লাবণ্য ও সৌন্দর্য গোপন করার জন্য যে বিধিবদ্ধ নিয়ম পালনের আদেশ রয়েছে, তাতে নারী তার রূপ-লাবণ্য ও সৌন্দর্য গায়রে মাহরাম থেকে আড়ালে রাখা এবং তাদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা পরিহার করাই হলো হিজাব।

পর্দার তাৎপর্য ও গুরুত্ব বর্তমানে বিদ্যমান। আর হিজাব-পর্দার মাধ্যমে নারী জাতির ইজ্জত সংরক্ষণ সম্ভব। কেননা, আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন,‘হে নবী (সা.)! আপনি আপনার স্ত্রীদের, আপনার কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলে দিন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের (মুখের) উপর নামিয়ে দেয়।

’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৯) উপরোক্ত আয়াতে মুখের উপর নামিয়ে দেওয়া মানে এমন বড় চাদর দ্বারা আবৃত করা, যা দ্বারা মুখমন্ডল ও পূর্ণ দেহ আবৃত করা যায়। বোরকার দ্বারা এ উদ্দেশ্য উত্তমরূপে পূরণ হয়। (তাফসিরে কুরতুবি)

আমেরিকার অন্যতম মানসিক রোগের চিকিৎসক ড. এডওয়ার্ড বগলার বলেন, প্রত্যেক মানুষের মনের আড়ালে আত্মা ধ্বংসকারী একটিউপাদান অতি সংগোপনে অবস্থান করছে। এর অস্তিত্ব সম্পর্কে মানুষ সচেতন নয়। অনেক সময় এর প্রভাবে মানুষ অজানা কারণে মানবিক অস্বস্তি ও অহেতুক নানা প্রকার শারিরীক ও মানসিক ব্যাধিতে ভুগে থাকেন। এই মারাত্মক উপাদানই স্নায়ুবিক বিকৃতি ও দুর্বলতার মূল কারণ। কুচিন্তা ও কুভাবনা এই উপাদানকে আরো শক্তিশালী করে তোলে। খারাপ চিন্তা-ভাবনা পরিহারই এই ক্রিয়াকে কেবল নিষ্ক্রিয় ও দমন করতে পারে। বলা বাহুল্য যে, এমন আত্মঘাতী বিষক্রিয়া থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য নারীকে পর্দার আড়ালে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম।