পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সাংবাদিক বিনোদ দুয়ার বিরুদ্ধে বিজেপি নেতার আনা দেশদ্রোহিতা মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় সরকারের কোভিড নীতি পরিচালনার সমালোচনা করার জন্য সাংবাদিক বিনোদ দুয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছিলেন বিজেপি নেতা অজয় শ্যাম। বৃহস্পতিবার সেই মামলা খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ফলে এই দেশদ্রোহিতা মামলা থেকে অবশেষে রেহাই পেলেন প্রবীণ সাংবাদিক বিনোদ দুয়া।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ইউ ইউ ললিত এবং বিচারপতি বিনীত সরণের ডিভিশন বেঞ্চের তরফে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, প্রত্যেক সাংবাদিক কেদারনাথ সিং মামলার আওতায় সুরক্ষা পাওয়ার পূর্ণ দাবিদার। ১৯৬২ সালের সেই ঐতিহাসিক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ ভারতীয় দণ্ডবিধির আওতায় দেশদ্রোহিতা আইনের বৈধতা বজায় রেখেছিল। সেই সঙ্গে আইনের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে আদালত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে।

একই সঙ্গে, বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদন ছাড়া ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যে কোনও সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতা ধারায় এফআইআর দায়ের করতে না দেওয়ার জন্য যে আর্জি বিনোদ দুয়া জানিয়েছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বেঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, আমরা কমিটি গঠনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছি কারণ তা সরাসরি বিচারবিভাগীয় ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে। তবে বিনোদ দুয়ার বিরুদ্ধে হিমাচল প্রদেশে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, তা আদালত খারিজ করে দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ মার্চ একটি ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওতে কোভিড পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন সাংবাদিক বিনোদ দুয়া। এর পরেই সাংবাদিক দুয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অজয় শ্যাম। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে ৬ মে দুয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং অবমাননাকর তথ্য প্রচারসহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করেছিল হিমাচল প্রদেশ পুলিশ।