পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: লক্ষ লক্ষ হাসপাতাল গড়ে উঠলেও স্বাস্থ্য সমাধান হবে না, যদি না মানুষ নিজে সচেতন হয়। জীবন ধারণের জন্য আমাদের সুস্থ থাকতে হবে। শুক্রবার গুজরাতে ভুজে পতিদার সম্প্রদায়ের কচ্ছ লেউভা প্যাটেল সমাজ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কে কে প্যাটেল সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালের উদ্বোধনের পর ভার্চুয়ালি এই কথাগুলি বলেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুস্থ থাকার জন্য আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। নিজেকে সুস্থ রাখতে হবে। তার জন্য যোগভ্যাসের অনুশীলন প্রয়োজন। আর আয়ুর্বেদের ওপরে ভরসা রাখতে হবে।
পুরো বিশ্বকে যোগ-প্রাণায়াম, আয়ুর্বেদের ওপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।মোদি এদিন বলেন, সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু মানুষ যদি নিজে সচেতন না হয়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর না দেয়, শারীরিক কসরৎ না করে তাহলে হাসপাতালের লক্ষ লক্ষ শয্যা যথেষ্ঠ নয়। নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য মানুষকে জীবনযাত্রার পরিবর্তন করতে হবে না।মোদি বলেন, আমি আমাদের ভাই, বোন সকলের উদ্দেশে বলছি এটি হল আজাদি কি অমৃত মহৎসব। আমরা যত সংখ্যক হাসপাতাল স্থাপন করি না কেন, তাতে লক্ষাধিক শয্যা থাকলেও সব কিছু সমাধান করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা যদি আমাদের নিজেদের জীবন যাত্রার পরিবর্তন করি, সমাজ সচেতনতা বাড়িয়ে তুলি তাহলেই আমরা একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে পারব। তাহলে আর আমাদের হাসপাতালের দরজায় দরজায় ঘুরতে হবে না।আরও পড়ুন:
এদিন কে কে প্যাটেল সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট পতিদার সমাজের কচ্ছ লেউভা সমাজ দ্বারা এই হাসপাতালটি তৈরি হল। নতুন হাসপাতালটি কচ্ছের লক্ষাধিক মানুষ এবং সীমান্ত জেলায় মোতায়েন সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর হাজার হাজার জওয়ানদের পরিষেবা দেবে। মোদি এদিন কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত পরিষেবা, প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি যোজনা কথা উল্লেখ করে বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দিচ্ছে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি। আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল হেলথ মিশন রোগীদের জন্য আরও সুবিধা প্রদান করবে।
আরও পড়ুন:
আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মিশনের মাধ্যমে, জেলা এবং ব্লক স্তরে আধুনিক এবং জটিল স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এদিন চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামোর উন্নতিতে ভবিষ্যতে রেকর্ড সংখ্যক চিকিৎসক তৈরি হচ্ছেন বলে আশাপ্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এইমস ছাড়াও চিকিৎসা পরিকাঠামোর উন্নতিতে আরও অনেক সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কচ্ছের ভুজ শহরে এই হাসপাতাল স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও উন্নত করবেন বলে তিনি দাবি করেন। কেন্দ্রের লক্ষ্য চিকিৎসা শিক্ষাকে আরও সাশ্রয়ী করে তোলা। তাহলে আরও অনেক চিকিৎসক তৈরি হবে। গুজরাটে এক সময় মাত্র ৯টি মেডিকেল কলেজে, ১১০০ আসন উপলব্ধ ছিল। আজ সেখানে একটি এইমস ও তিনডজনেরও বেশি মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে। এখানে আজ ৬ হাজার শিশুকে চিকিৎসা করানো সম্ভব।২০২১ সালে রাজকোটে ৫০টি আসন নিয়ে এইমস হাসপাতাল গড়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: