পুবের কলম,ওয়েবডেস্ক: নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল। ইতিমধ্যেই ৮ হাজারে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তারা সকলেই নিরপরাধ। ইসরাইলি বিমান হামলায় ৩ হাজার ১৯৫টি শিশু নিহত হয়েছে। শিশুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন রবিবার এই তথ্য দিয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর সারা বিশ্বে সংঘাতের কারণে যত শিশু নিহত হয়েছে, এ সংখ্যা তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
এক্সে দেওয়া পোস্টে সেভ দ্য চিলড্রেন বলেছে, গাজায় নিহত শিশুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ, এখনও এক হাজার শিশু নিখোঁজ।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই ইসরাইলি বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। অথচ তার পরেও ইসরাইলের এই গণহত্যার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসংঘে ভোটদানে বিরত থাকল ভারত। বিশ্বের ১২০ টি দেশ যুদ্ব বন্ধের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও ভারত বিরত থেকেছে। তা নিয়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন সোনিয়া গান্ধি। সোমবার সোনিয়া বলেন, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে ভারতের অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। সোনিয়া কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে আঙুল তুলে দ্য হিন্দু পত্রিকায় লেখেন, ইসরাইলের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্বকে অবশ্যই আমরা মূল্য দিচ্ছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ইসরাইলের প্রতি সংহতি জানিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তাতে ফিলিস্তিনের অধিকার নিয়ে কোনও কথা বলেননি।আরও পড়ুন:
দ্য হিন্দু পত্রিকায় লেখা নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধি ফিলিস্তিনের প্রতি ভারতের পুরাতন অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, ইসরাইল গাজায় হামলা চালানোর পর ফের ভারতের অবস্থান সামনে এল। অথচ এবার প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের অধিকারের জন্য একটি শব্দ উচ্চারন করলেন না। অথচ হামাসের হামলার পর পরই ইসরাইলের প্রতি সংহতি জানাতে দেরি করেননি তিনি ।আরও পড়ুন:
সোনিয়া নিবন্ধে আরও লিখেছেন, গাজা ও সন্নিহিত এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বৈষম্যমূলক অভিযানের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে । যার মধ্যে রয়েছে বহুশিশু, নারী ও পুরুষ । তিনি লেখেন, ইসরাইল যা করেছে এবং করে চলেছে এখন তারই পাল্টা প্রতোরোধের চেষ্টা চলছে। তিনি ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে কংগ্রেসের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সোনিয়া লিখেন, ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি হতে পারে না।
দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলে নিরবচ্ছিন্ন অবরোধ গাজাকে একটি উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে। শান্তি তখনই আসবে যখন বিশ্ব এর নেতৃত্ব দেবে। স্পষ্ট লিখেছেন সিনিয়র কংগ্রেস নেত্রী।আরও পড়ুন:
প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি বলেন, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে গাজায় ইসরাইল বাহিনী ও হামাসের মধ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বহু দেশ। পাস হয়েছে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব। ভারত ভোটদান থেকে বিরত থেকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই অবস্থানের বিরোধীতা করেছে কংগ্রেস। সোনিয়া এও লিখেছেন, এমন সময়ে বিশের প্রভাবশালী বহু দেশ সম্পূর্ণ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অথচ বিশ্বের প্রভাবশালি এই দেশগুলির উচিত ছিল যুদ্ধের অবসানে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করা । এখন ইসরাইলের সেনাবাহিনীর কার্যকলাপ থামানোর জন্য শক্তিশালী কণ্ঠের প্রয়োজন।