পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আফিগানিস্তানে পোস্ত চাষ ও আফিম উৎপাদন ৯৫ শতাংশ কমেছে, এমনই একটি প্রতিবেদন সামনে এসেছে রাষ্ট্রসংঘের তথ্যসূত্রে। রাষ্ট্রসংঘের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অবৈধ আফিম চাষের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ফল পেতে এটাই হল আসল সুযোগ। এই বছর পরিচালিত একটি সমীক্ষায় রাষ্ট্রসংঘের মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত কার্যালয় (ইউএনওডিসি) বলেছে যে, গত বছরের এপ্রিলে তালিবান প্রশাসনের মাদক নিষেধাজ্ঞার পর আফগানিস্তানে আফিম চাষ আনুমানিক ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।
ইউএনওডিসি-র ভিয়েনা অফিস থেকে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে রাষ্ট্রসংঘের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, আফিম অর্থনীতির প্রায় মোট সংকোচনের সুদূরপ্রসারি ফল দেবে।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের জনগণের জন্য একটি আফিম-মুক্ত ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য বিকল্প উন্নয়ন সহায়তা গড়ে তোলা জরুরি। গ্রামীণ সম্প্রদায়ের রুজি-রোজগারের কথা ভেবে এই সহযোগিতার কথা ভাবা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
ইউএনওডিসি'র ২০২৩ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী আফিম উৎপাদন ২৩৩,০০০ হেক্টর থেকে কমে ১০, ৮০০ হেক্টরে নেমে এসেছে। উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে আফিমের সরবরাহ অনুরূপভাবে ৯৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
রাজস্ব বিস্ময়করভাবে ১ বিলিয়ন হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ের মধ্যে আফিম উৎপাদন ৬২০০ টন থেকে কমে ৩৩৩ টন হয়েছে। কৃষকদের বিক্রি থেকে আয় ২০২২ সালে ছিল ১৩৬০ মিলিয়ন ডলার, ২০২৩ সালে সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ১১০ মিলিয়ন ডলার। ইউএনওডিসির এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ঘাডা ওয়ালি বলছেন, ''এটি অবৈধ আফিমের বাজারের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করলেও স্থানীয় এবং বিশ্বব্যাপী উভয় বাজারের ক্ষেত্রেই ক্ষতির কারণ। বিশেষ করে আফগানিস্তানের জনগণের জন্য। আফিম ব্যবসার ক্ষতি দেশের মানবিক চাহিদা বাড়াচ্ছে। আফগানিস্তানে মানুষকে আফিম থেকে দূরে রাখতে উপযুক্ত জীবিকার জন্য শক্তিশালী বিনিয়োগের খুব প্রয়োজন।আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, আফগানিস্তান আগে ছিল বিশ্বের শীর্ষ আফিম উৎপাদক- বিশ্বব্যাপী সরবরাহের ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী এবং ইউরোপ ও এশিয়ায় হেরোইনের একটি প্রধান উৎস। তালিবান ক্ষমতা দখল করার পর এই মাদক চাষের উদ্যোগকে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এপ্রিল ২০২২ -এ ফসলের উপর তারা আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ।