পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচনে কোনও গোলমাল বা অভিযোগ উঠলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আগেই সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই লক্ষ্যেই প্রথম দফার ভোটে বড়সড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে নামানো হচ্ছে "কুইক রেসপন্স টিম" বা কিউআরটি। কমিশন জানিয়েছে, ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে মোট ২,১৯৩টি কিউআরটি কাজ করবে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি কিউআরটি থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। সেখানে মোট ২৮৮টি দল মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২১৯টি এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলায় ৬৯টি দল থাকবে। এর পরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, যেখানে ২৫৩টি কিউআরটি থাকবে।

পশ্চিম মেদিনীপুরে থাকছে ২৪৮টি দল।

কোনও বুথে অশান্তির খবর পেলেই দ্রুত সেখানে পৌঁছে যাবে এই বিশেষ বাহিনী। প্রতিটি কিউআরটি-র জন্য নির্দিষ্ট গাড়ির ব্যবস্থা থাকবে। দলে অন্তত একজন করে রাজ্য পুলিশের এসআই বা এএসআই পদমর্যাদার আধিকারিক থাকবেন, সঙ্গে থাকবেন চার থেকে ছয়জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। প্রয়োজনে এই সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে। প্রতিটি কিউআরটি-র গাড়িতে ক্যামেরা বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বুথের মানচিত্রও দলের কাছে থাকবে, যাতে দ্রুত অবস্থান নির্ধারণ করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সেক্টর অফিস এবং কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবে এই দলগুলি।

জেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বাঁকুড়ায় ১৮০টি, বীরভূমে ১৬১টি, মালদহে ১৫৭টি, পুরুলিয়ায় ১৩৯টি এবং কোচবিহারে ১৩৩টি কিউআরটি থাকবে। আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে মোতায়েন হচ্ছে ১১৩টি দল। অন্য জেলাগুলিতে কিউআরটির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে জলপাইগুড়িতে ৮৩টি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৫টি, আলিপুরদুয়ারে ৭০টি, ঝাড়গ্রামে ৬৬টি, দার্জিলিঙে ৫২টি, শিলিগুড়িতে ৩৯টি এবং কালিম্পঙে ১৭টি কিউআরটি থাকবে। উত্তর দিনাজপুর জেলাকে ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ, এই দুই পুলিশ জেলায় ভাগ করে যথাক্রমে ৫৪ ও ৭৫টি দল মোতায়েন করা হচ্ছে।

শুধু কিউআরটি নয়, ভোট পরিচালনার জন্য সেক্টর অফিসের সংখ্যাও নির্ধারণ করেছে কমিশন।

সাধারণত ৮ থেকে ১০টি বুথ নিয়ে একটি সেক্টর অফিস গড়ে তোলা হয়। সেই হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুরে সর্বাধিক ৪৩০টি সেক্টর অফিস তৈরি হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ায় ৩৮০টি করে, মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ৩৯৩টি এবং মালদহে ২৬১টি সেক্টর অফিস থাকবে। অন্যান্য জেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী সেক্টর অফিস গড়ে তোলা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এই দফায় উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলা এবং জঙ্গলমহল-সহ রাজ্যের মোট ১৬টি জেলায় ভোট হবে। কমিশনের লক্ষ্য, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং কড়া নজরদারির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করা।