কৌশিক সালুই বীরভূম:- বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে তোপ দাগলেন রাজ্যের পৌর নগর উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রবিবার বীরভূমের সিউড়িতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কর্মসূচিতে এসে উত্তর প্রদেশে অপরাধীদের আইনের বিচার উপেক্ষা করে বারংবার এনকাউন্টার করে মেরে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

 বিগত এক সপ্তাহে যোগী রাজ্যে প্রথমে বাহুবলী নেতা আতিক আহমেদের ছেলে আসাদ আহমেদ ও তার সঙ্গী গোলামকে পুলিশ এনকাউন্টার করে মারে। তার দিন কয়েক পর আতিক আহমেদ ও তার ভাই আশরাফ আহমেদকে পয়েন্ট জিরো রেঞ্জ থেকে পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় দুষ্কৃতীরা গুলি করে খুন করে।

 এ প্রসঙ্গে ফিরহাদ হাকিম বলেন," যে কোনো অপরাধী আইন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচার পাবেন। কিন্তু তার আগেই মানবাধিকার লংঘন করে এনকাউন্টার  করে মেরে দিচ্ছে যোগী সরকার। বাংলায় কোন কিছু ঘটলেই মানবাধিকার হরণ হচ্ছে, বাংলায় আইনের শাসন নেই বলে ছুটে আসছে বিজেপির লোকজন। আর বিজেপি শাসিত উত্তর প্রদেশে বারবার বিচার ব্যবস্থার প্রতি আঙুল দেখিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে এইভাবে।
বুলডোজার দিয়ে দিয়ে বাড়ি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। যে বাহুবলি তার হাতে এখন আইন উত্তর প্রদেশে যোগী আদিত্যনাথ হচ্ছে উত্তর প্রদেশের সব থেকে বড় বাহুবলি। মানবাধিকার কমিশনের লোকজনদেরকে বলছি আপনারা একবার উত্তরপ্রদেশ ঘুরে আসুন। যেখানে মানুষের ন্যূনতম অধিকার নেই সে ব্যাপারে আপনারা সচেষ্ট হন। বাংলায় মানুষ নিজের অধিকারে বাঁচে। পশ্চিম বাংলায় রামনবমীর মিছিলের নামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করে বিজেপি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণ করে।

 তাই বাংলার তপশীল,আদিবাসী থেকে সংখ্যালঘু এবং সাধারণ মানুষ সকলেই উচিত মমতার উন্নয়নের সঙ্গে থাকা।
তা না হলে বিজেপি এলে এই রাজ্য উত্তর প্রদেশের মত এনকাউন্টার শুরু হয়ে যাবে। যে কোনো বিচারব্যবস্থায় আইনের শাসন থাকবে না"। এছাড়া গরু পাচার মামলায় বাংলার শাসক দলের বিভিন্ন নেতাকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির জড়ানো চেষ্টা প্রসঙ্গে ফিরহাদ  হাকিম বলেন," গরু পাচার হয় যোগীর উত্তর প্রদেশ থেকে। তা ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যায়। উত্তর প্রদেশ হলো বিজেপি শাসিত এবং সীমান্ত পাহারা দেয় অমিত শাহের বিএসএফ। গ্রুপ টাকা যদি কেউ নিয়ে থাকে তা হলো উত্তর প্রদেশের বিজেপি এবং বিএসএফকে যারা রক্ষা করে সেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আমরা নিই নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেন সততার প্রতীক কেউ যদি ব্যক্তিগত ভাবে দোষ বা দুর্নীতি করে থাকে সেটা সরকার বা মমতার নয়। আর বিজেপি হল ওয়াশিং মেশিন।
সেখানে কেউ দুর্নীতি করে গেলে সে সম্পূর্ণ নির্দোষ। সব থেকে বড় উদাহরণ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যার ঘুষ নেওয়ার ছবি সবাই দেখেছে। সি বি আই এর খাতায় নাম আছে কিন্তু এখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বলে সে এখন শুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। পুলওয়ামার ঘটনায় তৎকালীন রাজ্যপাল সত্যপাল বলে দিয়েছে তিনি চেয়েছিলেন  পাঁচটি এয়ারক্রাপট।  সিআরপিএফ জওয়ানদের কে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু দেওয়া হয়নি। সড়কপথে যেতে গিয়ে জঙ্গি হামলায় সিআরপিএফ জওয়ান শহীদ হয়েছিল। রাজ্যপাল মোদীজি কে বলেছিলেন কেন  জওয়ানদের জন্য এয়ারক্রাফট দেওয়া হলো না। তখন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যপালকে  চুপ থাকতে বলেছিলেন"।

তৃণমূল কংগ্রেসের এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সেচ মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক, বিধায়ক  চিত্র তারকার সোহম চক্রবর্তী, বীরভূমের দুই সাংসদ শতাব্দী রায় এবং অসিত মাল মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বিধায়ক ও নেতৃত্ববৃন্দ।