পুবের কলম প্রতিবেদকঃ আল-আমিন মিশনের শিক্ষাক্ষেত্রে বিপ্লবের ফলেই হোক বা নিজ নিজ প্রচেষ্টায় হোক– আজ গ্রামের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক সমাজের ছেলেমেয়েদের কলকাতা শহরতলীতে উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এদের অধিকাংশই দেশভাগের পর প্রথম প্রজন্মের কৃতবিদ্য। জীবন যুদ্ধে লড়াই করা এইসব ছেলেমেয়েরা কলেজ-ইউনিভার্সিটির বেড়া পেরিয়ে একবুক স্বপ্ন নিয়ে বাসা বাঁধে এই শহরতলীর বিভিন্ন প্রান্তে। সদ্য রোজগার জগতে প্রবেশ করা নাগরিক জীবনে অনভিজ্ঞ এই তরুণ-তরুণীদের কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন অজ্ঞাত কারণে অনেক জায়গায় তাদেরকে ফ্ল্যাট ও বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয় না– এমনকি তাদের কাছে তা বিক্রিও করা হয় না। এটি একদিকে যেমন তাদেরকে কঠিন বাস্তবতার সাথে পরিচিত করিয়ে দেয়– একই সঙ্গে তাদের আত্মসম্মানে আঘাত করে।
স্বাধীনতার পর থেকে মানিয়ে নেওয়া এই মানসিকতা নিয়ে এভাবেই চলছিল পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবন প্রবাহ।আরও পড়ুন:
বসিরহাট মফস্বলের ছেলে আল-আমিন পড়ুয়া তুহিন আহমেদ ২০১১ সালে শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের আর্কিটেকচার বিভাগ থেকে স্নাতক হয়ে কলেজ হোস্টেল ত্যাগ করেন। এরপরেই শুরু হয় মাথা গোঁজার জায়গার অনুসন্ধান। অনেক দুর্গতির শেষে নাম পরিবর্তন করে ঠাঁই মেলে এক বাসা বাড়িতে। তখন সে অনুভব করে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই সমস্যার সমাধান হওয়া খুবই প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
২০১৮ সালে আর্কিটেক্ট তুহিন আহমেদ ও আল-আমিন মিশনের সহপাঠী শেখ আতাউর রহমান এর নেতৃত্বে মিশনেরই কিছু প্রাক্তনী সহবৃন্দ নিউটাউন আলিয়া ইউনিভার্সিটির অনতিদূরে কালিকাপুর গ্রামের দেড় বিঘা জমি ক্রয় করেন।
এরপর ক্রয় করা জমির উপর দু'টি পাঁচতলা ব্লকের ইনহাউজ ডিজাইন করা হয়। ব্যাংকুয়েট হল– জিমনেসিয়াম– মসজিদ– ভিসিটরদের জন্য মিটিং রুম– রুফটপ গার্ডেন সহ একাধিক সুযোগ-সুবিধাপূর্ণ এই আবাসন প্রজেক্ট-এর নাম দেওয়া হয় 'ইনভিক্টা'– যার আক্ষরিক অর্থ ‘অপরাজেয়’। ইনভিক্টার নির্মাণ কাজের জন্য তারা 'প্রমিসড ল্যান্ড' নামক এক ডেভেলপমেন্ট ফার্ম গঠন করেন। যথাক্রমে জেলার ভূমি দফতর ও ইঞ্জিনিয়ারিং দফতর থেকে অনুমোদন নিয়ে নির্মাণকার্য শুরু হয়। ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ সালে এই হাউসিং প্রজেক্টের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তাদের সকলের স্বপ্নদ্রষ্টা তাদের প্রিয় স্যার আল-আমিন মিশন-এর সম্পাদক এম. নূরুল ইসলাম সাহেব। এরপর বাস্তবিক রূপ নিয়ে মাথা তুলতে থাকে তাদের স্বপ্নের প্রজেক্ট ইনভিক্টা। ইতিমধ্যেই তারা প্রায় ৫০ শতাংশ নির্মাণকার্য সম্পন্ন করেছেন।আরও পড়ুন:
শুধু ইনভিক্টা নয় এরপর একগুচ্ছ হাউসিং প্রকল্প নিয়ে কাজ করে চলেছে প্রমিসড ল্যান্ড। তারা জানান নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত ও প্রগতিশীল ক্ষেত্র গঠনের মাধ্যমে কলকাতা শহরতলীতে পিছিয়ে পড়া মানুষের যথাযথ অংশগ্রহণ করানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। নাগরিক সমাজ ব্যবস্থায় দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই অসামঞ্জস্যতা যদি তাদের হাত ধরে কোনও সমাধান পায় তবে সেটাই হবে তাদের জন্য সব থেকে বড় পাওনা।
আরও পড়ুন:
এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো– তুহিন আহমেদ এই প্রকল্পের বাইরেও বিভিন্ন খ্যাতনামা মর্যাদাপূর্ণ প্রজেক্ট এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। তার নিজস্ব আর্কিটেকচারাল ফার্ম 'রেডিয়েন্ট'-এর তত্ত্বাবধানে রবীন্দ্র ভারতী ইউনিভার্সিটি নিউটাউন ক্যাম্পাস– উৎসধারা সৌন্দর্যায়ন প্রজেক্ট– গঙ্গাসাগর মেলা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট– উত্তরবঙ্গ বায়ো-ডাইভারসিটি পার্ক ইত্যাদি নানাবিধ প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হচ্ছে।