
আমদেজ আলি বলেন, "এটা এসআইআর নয়। এসআইআর যদি হতো তাহলে বাংলার জন্য আলাদা হতো কেন? বলা হয়েছিল এসআইআর হলে বাংলাদেশি, রোহিঙ্গাদের ফেরত ফাটানো হবে। কিন্তু, কোথায় বাংলাদেশি, কোথায় রোহিঙ্গা?" তিনি জানান, একের পর নিয়ম চালু করল কমিশন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি থেকে শুর করে অ্যাডজুডিকেশন ও তারপরে ডিলিট করে দেওয়া হল নাম। কেন নাম ডিলিট হল তা জানাও হয়নি। তাঁর কথায়, "ট্রাইব্যুনালে গেলে কি নামটা উঠবে তা নিয়ে এখনও নিশচয়তা নেই। কারণ যে নথি আগে জমা দেওয়া হয়েছিল সেই নথিই আবার ট্রাইব্যুনালে জমা দেবেন ডিলিটরা।
কারা বিচার করবে যারা আগেও অ্যাডজুডিকেশনের বিচার করেছিল তারাই দেখবে।" তিনি স্পষ্টভাবে জানান, "ভিক্ষার নাগরিকত্ব চাই না, কেন নাম ডিলিট করা হল? সেটাই এখন কোর্টের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে।" তাঁর হুঁশিয়ারি, তিনি প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। ইডি সিবিআইকে ভয় পান না। অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, আরও ১১ টি রাজ্যে লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি ছিল না। বাকি রাজ্যে ৪ থেকে ৫ টি সন্তা থাকা সত্ত্বেও নোটিশ পাঠানো হয়নি। তাঁর দাবি, পিছনের দরজা দিয়ে বাংলাকে দখল করতে চাইছে বিজেপি। তারা কয়েক বছন ধরে ব্যর্থ হয়েছে বলে এই কমিশনের দ্বারা এই ষড়যন্ত্র করেছে। ডিভাইডেড রুলস তৈরি করা হয়েছে। এআই ব্যবহার নিয়েও কমিশনের সমালচনা করেন। তাঁর বার্তা, ১৯৪৭ সালে যে স্বাধিনতার লরাই শুরু হয়েছিল সেই লড়াই শুরু করতে হবে। একইসঙ্গে, ডিলিটদের মধ্যে যে হিন্দু মুসলিম নিয়ে বিভাজন তৈরি করা হছে তা নিয়েও সতর্ক হতে বলেন।
নির্বাচন কমিশনারের ক্ষমতা একটি আইনের কথা উল্লেখ করে সমালোচনা করেন যে, কমিশনাররা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবছেন। তিনি বলেন, এ বছর তাঁর আয়ের জাকাতের অংশ তিনি কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে না দিয়ে সেই সমস্ত অসহায় মানুষদের আইনি লড়াইয়ের জন্য দেবেন, যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে অবৈধভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এদিনের সভায় ছিলেন অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র। তিনি বলেন, বর্তমানে এসআইআর-এর নামে যে প্রক্রিয়া চলছে তাকে অনেকেই ভুল, অন্যায়, বেআইনি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন। রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপলস অ্যাক্ট আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যখন ভোটার তালিকার সংশোধনী অসম্পূর্ণ থাকে, তখন বিদ্যমান তালিকার ভিত্তিতেই ভোট নেওয়া সম্ভব। কিন্তু কেন তা করা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন। ওমপ্রকাশ মিশ্রের মতে, এই ভোটাররা ডিসেম্বর মাসেও ভোটার তালিকার অংশ ছিলেন। এখন তথাকথিত 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' কথা বলে তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, নামের বানান বা বাবার নামের বানানে সামান্য ভুলের মতো বিষয়গুলো আসলে অযৌক্তিক। সুপ্রিম কোর্ট কেন এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে না এবং কেন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এমনটা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়ে যাওয়ায় এবং তা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ না থাকায় বর্তমানে বিকল্প পথগুলো খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন যে, যাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তারা যেন তাদের পরিবার ও পরিচিতদের সচেতন করেন। যারা জোর করে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানান।
সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বা ট্রাইব্যুনাল থেকে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। তিনি এনআরসি বা অন্যান্য আইনি জটিলতার উদাহরণ দিয়ে বলেন যে, যদি কেউ ভাবেন আদালত থেকে বড় কোনো পরিত্রাণ আসবে, তবে তারা ভুল ভাবছেন। বিচার ব্যবস্থার ওপর ভরসা না করে তিনি একে একটি 'রাজনৈতিক লড়াই' হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, বিজেপি মুসলিম এবং মহিলাদের লক্ষ্য করে রাজনীতি করছে কারণ তারাই তৃণমূলের প্রধান ভোট ব্যাংক। তিনি দাবি করেন, হিন্দুদের বাদ পড়ার বিষয়টি বিজেপির কাছে 'কোল্যাটারাল ড্যামেজ। যা তাদের মূল লক্ষ্যের পথে বাধা নয়। তিনি হাঙ্গেরির উদাহরণ টেনে বলেন, স্বৈরাচারী শাসককে হঠাতে হলে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তার মতে, তাত্ত্বিক আলোচনা বা আইনি লড়াইয়ের চেয়ে নির্বাচনের ময়দানে জয়ী হওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনে জিততে না পারলে সুপ্রিম কোর্টে ভালো বক্তৃতা দিয়ে কোনো লাভহবে না। বক্তা জয়মাল্য বাগচীর মতো ব্যক্তিত্বদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন এবং বলেন যে বাস্তবতাকে তার প্রকৃত রূপেই চেনা উচিত। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, বিজেপির মূল লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুসলিম প্রভাব কমানো এবং এর জন্য রাজনৈতিক প্রতিরোধই একমাত্র পথ।