পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অনেক মহিলা পাননি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা। এনিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় সরকারি আধিকারিক, বিডিও এবং পুরকর্মীদের ঘেরাও করার পাশাপাশি তাঁদের লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছোড়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে কিছু সাধারণ মানুষের মনে মহিলাদের মাসিক আর্থিক সহায়তার এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে নবান্ন। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যের এক কোটিরও বেশি যোগ্য মহিলা নিয়ম মেনে প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করেই ভাতা পাবেন।
উপভোক্তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে খুব শীঘ্রই অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টালে নতুন একটি 'এডিট' অপশন চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বাতিল হওয়া আবেদনকারীরা নিজেদের ভুল সংশোধন করার সুযোগ পাবেন।রাজ্যের কোষাগারের অবস্থা খুব একটা অনুকূল না হলেও এই প্রকল্প চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হবে না বলে সরকার আশ্বস্ত করেছে। বর্তমান সরকার তাদের প্রথম বাজেটে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়ার এই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এর আগে পূর্বতন সরকারের 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা গড়ে দেড় হাজার টাকা করে পেতেন, যার বার্ষিক খরচ ছিল প্রায় ৩৯,৬০০ কোটি টাকা। বর্তমান প্রশাসনের দাবি, তথ্য যাচাই করে দেখা গিয়েছে আগে বহু সরকারি কর্মী এবং আয়করদাতারাও বেআইনিভাবে ওই সুবিধা ভোগ করতেন। বর্তমানে সেই সব অযোগ্যদের বাদ দিয়ে রাজ্যের ১ কোটি ৭০ লক্ষ মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনার প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর সরকারের প্রায় ৬১,২০০ কোটি টাকা খরচ হলেও 'ডবল ইঞ্জিন' সরকারের সুবিধায় সেই ঘাটতি অনায়াসেই মেটানো সম্ভব বলে মনে করছে নেতৃত্ব।
মুখ্যসচিব মনোজকুমার অগ্রবালের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য মোট ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল, যার মধ্যে ১ কোটি ২২ লক্ষ অনুমোদন পেয়েছে এবং বাতিল হয়েছে ২৭ লক্ষেরও বেশি। আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে এই বাতিল আবেদনগুলি পুনরায় যাচাইয়ের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে প্রশাসনের। আমলাদের মতে, আয়কর প্রদান বা আর্থিক সচ্ছলতার কারণে কিছু আবেদন বাতিল হলেও, মূলত আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর যুক্ত না থাকাই আবেদন বাতিলের প্রধান কারণ। এছাড়া লক্ষ্মীর ভান্ডারের সময় অন্য নম্বর দেওয়া বা একই মোবাইল নম্বর দিয়ে 'পিএম কিসান'-এর মতো একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার ফলেও অনেকের নাম বাদ পড়েছে।
এমন বহু উপভোক্তা রয়েছেন যাঁরা জুন মাসে টাকা পেলেও জুলাই মাসে অন্নপূর্ণার টাকা পাননি, যা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে। নবান্নের কর্তারা জানাচ্ছেন, পূর্বতন তথ্যের ভিত্তিতে জুন মাসে টাকা পাঠানো হলেও, পরে তথ্য যাচাইয়ের সময় গরমিল ধরা পড়ায় অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এই বিভ্রান্তি কাটাতেই পোর্টালে 'এডিট' অপশনের সুবিধা আনা হচ্ছে। এর ফলে মহিলারা নিজেরাই পোর্টালে লগ-ইন করে দেখতে পারবেন কেন তাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে বা তাঁরা আদৌ প্রকল্পের যোগ্য কি না। সঠিক তথ্য দিয়ে ভুল সংশোধনের মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা নিশ্চিতভাবেই তাঁদের প্রাপ্য ভাতা পাবেন বলে নবান্নের তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।