পুবের কলম প্রতিবেদক: পুলিশের পর ডেঙ্গু রোধে এবার রেলকে চিঠি পাঠালেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা ডেঙ্গু রোধে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অভিযান শুরু করেছে। আর তাতে দেখা গিয়েছে, টালিগঞ্জ রেল ওভার ব্রিজের দুই দিকের বিস্তর এলাকা জুড়ে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। সেখানে পরীক্ষা করে মশার লার্ভাও মেলে। এরপরই দ্রুত ওই জায়গা পরিষ্কার করার আবেদন জানিয়ে শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম দীপক নিগমকে চিঠি পাঠান মেয়র। ইতিমধ্যেই সেই চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করেছে রেল।
পুরসভার আবেদন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে রেলের তরফে।আরও পড়ুন:
প্রত্যেক বছরই বর্ষা আসলে কলকাতা পুরসভার মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায় মশাবাহিত রোগ। পুরসভার তরফ থেকে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও শেষ কয়েকটা বছর ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া মৃত্যু শূন্য হয়নি। এই অবস্থায় এবছর বর্ষা আসতেই মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে প্রচারের সঙ্গেই পুরসভার তরফ থেকে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সেই কর্মকান্ডের নমুনাও নাগরিকদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ভ্রাম্যমান গাড়িতে এলইডি স্ক্রিন লাগিয়ে সচেতনার প্রচারের সঙ্গেই চলছে এই প্রচার। কীভাবে চলছে এই প্রচার!
এ প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্তা জানান, এক-এক দিন একটি করে ওয়ার্ড ঘুরছে এই গাড়ি। কিভাবে বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার রাখতে হবে, মশারি ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝানো সহ সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। এরসঙ্গেই কীভাবে পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা, আধিকারিকেরা ডেঙ্গু নিধনে কাজ করছে তা তুলে ধরা হচ্ছে স্ক্রিনে।আরও পড়ুন:
এদিকে শহরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, পরিত্যক্ত জমি। আর তাই এবার পরিত্যক্ত জমি নিয়েই কড়া আইন চাইছে পুরসভা। সেবিষয়ে খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছিলেন কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ।
তবে বর্তমানে শুধু আবেদন-নিবেদন নীতিতেই থেমে নেই পুর কর্তৃপক্ষ।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, জানুয়ারি থেকে শুরু করে ২৭ জুন পর্যন্ত বাড়িতে ডেঙ্গুর মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনকে নোটিশ ধরানো হয়েছে। এছাড়া ৪৩ জনের বিরুদ্ধে ৪৯৬ এ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এঁদের প্রত্যেকের বাড়িতেই ডেঙ্গুর লার্ভা মিলেছিল। এই মামলার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। নোটিশ করার পরেও হুঁশ না ফিরলে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করবে কলকাতা পুরসভা। সেক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মিউনিসিপ্যাল আদালতে এনে তার বিচার হবে।
আরও পড়ুন: