পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কলকাতার হগ মার্কেট এলাকায় বুলডোজার চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন এক আবেদনকারী। ঘটনায় উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এই মামলার শুনানি হতে পারে।
আরও পড়ুন:
রাজ্যে দীর্ঘ বিরতির পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে একাধিক জায়গায় ভোট পরবর্তী হিংসার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যদিও ২০২১ সালের তুলনায় সেই সংখ্যা অনেক কম বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ, ভোটের ফল ঘোষণার রাতেই শহরের নিউ মার্কেট চত্বরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ, একদল যুবক রাজনৈতিক পতাকা হাতে এলাকায় ঢুকে হকারদের অস্থায়ী দোকান ও কাঠামোয় ভাঙচুর চালায়। একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ ওঠে।আরও পড়ুন:
এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তবে মামলাকারীর দাবি, আইনরক্ষকদের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর চলেছে এবং তা রোখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি।
সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি, ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক সংঘর্ষের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় ও সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। আবেদনকারী এই সমস্ত ঘটনার ক্ষেত্রেও আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।আরও পড়ুন:
এদিকে হগ মার্কেটের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। শহরের পুলিশ প্রধান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, কোনওভাবেই ভারী যন্ত্র নিয়ে মিছিল বা শক্তিপ্রদর্শন বরদাস্ত করা হবে না। যাঁরা এমন যন্ত্র ভাড়ায় দেবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে কোনও বিজয় মিছিলের আগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক বলেও জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে শমীক ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য বিজেপি নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।