পুবের কলম ওয়েবডেস্ক:  সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় এক আইনজীবী ভারতের প্রধান বিচারপতি বি.আর. গভই-এর উপর আক্রমণের চেষ্টা করেন। জানা গেছে, বিচারপতির বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে ওই আইনজীবী জুতো খুলে ছোড়ার চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে তাঁকে আটক করে বাইরে নিয়ে যান। আদালত ছাড়ার সময় তিনি চিৎকার করে বলেন, “সনাতনের অপমান আমরা সহ্য করব না।” পুরো ঘটনার পরও শান্ত থাকেন প্রধান বিচারপতি গভই। তিনি উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, “বিচলিত হবেন না।
আমি বিচলিত নই। এইসব আমাকে প্রভাবিত করে না।” মনে করা হচ্ছে যে, এই ঘটনা মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহোর বিষ্ণু মূর্তি পুনর্স্থাপন সংক্রান্ত পুরনো মামলার সঙ্গে যুক্ত। সেই শুনানিতে গভই বলেছিলেন, 'যান, ভগবানকেই গিয়ে জিগ্গেস করুন। এ বার আপনাদের দেবতাকেই নিজের জন্য কিছু করতে বলুন।' এই ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয় প্রধান বিচারতি বিআর গভইকে নিয়ে।
 যদিও পরে গভই বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা নয়। সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা সমর্থন জানিয়ে বলেন, “এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া সবসময়ই অতিরঞ্জিত হয়।” অন্যদিকে জুতো ছোড়ার ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তিনি লেখেন যে, "ওই আইনজীবীর নাম প্রকাশ করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এটি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের উপর একটি স্পষ্ট জাতিগত আক্রমণ বলে মনে হচ্ছে । সুপ্রিম কোর্টের সকল বিচারপতির এক যৌথ প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে নিন্দা করা উচিত যে, আদালত আদর্শগত আক্রমণ সহ্য করবে না।
" অন্যদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত আইনজীবী রাকেশ কিশোরের আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের লাইসেন্স তৎক্ষণাৎ স্থগিত করল বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (বিসিআই)। বিসিআই জানিয়েছে, এই আচরণ Advocates Act, 1961 ও Bar Council of India Rules on Professional Conduct and Etiquette-এর গুরুতর লঙ্ঘন। বিসিআই-এর নির্দেশ অনুযায়ী, রাকেশ কিশোর এখন থেকে দেশের কোনও আদালত, ট্রাইবুনাল বা কর্তৃপক্ষের সামনে আর আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত হতে পারবেন না। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বার কাউন্সিল অব দিল্লিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর করে এবং সব আদালতকে অবহিত করে।